‘বাংলার আইনশৃঙ্খলার দফারফা’, আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ইডির তোপ, চরম অস্বস্তিতে মমতা!

ভারতের বিচারব্যবস্থার অলিন্দে আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আজ উঠতে চলেছে বহুল চর্চিত এবং হাই-ভোল্টেজ ‘আইপ্যাক’ (I-PAC) মামলা। এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র আনা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে যে সওয়াল-জবাব হতে চলেছে, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

মামলার মূল প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। অভিযোগের তালিকায় সবথেকে বিস্ফোরক দাবিটি হলো—তদন্ত চলাকালীন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আধিকারিকদের হাত থেকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। একটি সাংবিধানিক পদে আসীন থেকে কীভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তস্থলে পৌঁছে তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, এই ধরণের ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগের।

এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সওয়াল করে এসেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের আইনি অবস্থান এবং এই মামলার গতিপ্রকৃতি আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সরকার এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার।

গত ২৩শে এপ্রিল, লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার দিন এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় আদালতকে জানিয়েছিলেন, “বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কারোর আপত্তি থাকলেও আমাদের এই অপ্রিয় সত্য বলতেই হবে।” শুধু তাই নয়, ইডি-র পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার কোনও একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হোক, যাতে প্রভাবশালী কারোর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সত্য সামনে আসতে পারে।

তুষার মেহতা ব্যক্তিগত মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর যুক্তি, যদি আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয় এবং তার বিচার না মেলে, তবে আগামী দিনে কোনও পুলিশ অফিসার বা বিচারকও যদি আক্রান্ত হন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন না। ইডি-র দাবি, খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেখানে ফাইল ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ উঠছে, সেখানে তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান দায়িত্ব। আজকের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy