‘যাঁরা যাওয়ার আগেই চলে যান,’-কোয়েল ছাড়তেই তাত্পর্যপূর্ণ বার্তা মমতার

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা যেন চরমে। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ কোয়েল মল্লিক। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। এর পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগের পরই ফেসবুক লাইভে এসে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁদের যাওয়ার আছে, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান। ইডি, সিবিআই বা বিজেপি-র ভয়ে বা বাঁচার তাগিদে যেখানে খুশি যান। আমি কাউকে আটকাব না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যারা দল ছাড়ছেন তাঁরা গোপনে এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
কোয়েল মল্লিকের আগে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, যাদের এবার রাজ্যসভায় প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। শুধু রাজ্যসভা নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস ও জাভেদ খানের মতো মমতার দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীরাও এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে।
লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, একুশে জুলাইয়ের আগে শহিদ পরিবারগুলিকে পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিদ্রোহীদের বিঁধে তিনি বলেন, “অভিষেককে খারাপ বলাটা এখন একটা বাহানা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” দল ক্রমশ ফাঁকা হয়ে গেলেও, তিনি ‘শূন্য’ থেকে পুনরায় দল গড়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কালীঘাটের অন্দরমহলে এই একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিদায় এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপের অভিযোগ নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চের আগে তৃণমূল কি নিজের ঘর সামলাতে পারবে? নাকি আরও বড় কোনো ভাঙনের মুখে পড়বে শাসকদল? এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।