যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে নয়া বিতর্ক! কোটি টাকার মানহানির মাঝে ফেঁসে গেলেন তারকা ইনফ্লুয়েন্সার?

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ তথা ফ্যাশন আইকন উরফি জাভেদকে কেন্দ্র করে ফের এক চাঞ্চল্যকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ফয়জল আনসারির একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরেই এই মুহূর্তে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল তোলপাড়। ফয়জলের দাবি অনুযায়ী, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের কাছ থেকে আন্দোলনের সমর্থনে একটি মাত্র রিল ভিডিও পোস্ট করার জন্য নাকি নগদ ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছিলেন উরফি। এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেত্রী। তবে চুপ না থেকে সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ফয়জল আনসারি প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে কৃত্রিমভাবে জনপ্রিয় করতে এবং তারকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে বড় অংকের টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি ছিল, উরফি জাভেদ এই প্রচারের অংশ হিসেবে ১ লক্ষ টাকা এবং অপর এক মডেল-অভিনেত্রী পুনম পাণ্ডে ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এমনকি আরও একাধিক বলিউড তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে অর্থের বিনিময়ে ওই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি।
এই ধরনের মানহানিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে আসার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন উরফি জাভেদ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিনেত্রীর ক্ষোভ, যিনি এই ধরণের ভিত্তিহীন দাবি করছেন, তিনি অতীতেও তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময় কুরুচিকর ও অসত্য তথ্য রটিয়েছিলেন। উরফির দাবি, ওই ব্যক্তি অতীতে তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর ও মিথ্যা মন্তব্য করেছিলেন, তাই এই সাম্প্রতিক অভিযোগের পেছনেও কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
নিজের সাফাইয়ে উরফি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, তিনি এই আন্দোলনের সমর্থনে কোনো ধরনের অর্থ নেননি। বরং এই অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের কারণে তাঁর পেশাগত জীবনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একাধিক নামী ব্র্যান্ড এই বিতর্কের জেরে তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বা কাজ করা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে উরফি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা এই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চিরতরে মুছে দেব। কিন্তু কোনো ধরনের অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই এভাবে চরিত্রহনন করা অত্যন্ত অন্যায়।”
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন উরফি জাভেদ। সেসময় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের এই ধরনের কঠোর আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সেই সাহসী মন্তব্যের পর থেকেই উরফি একটি নির্দিষ্ট মহলের রোষানলে পড়েন। ফয়জল আনসারির এই সাম্প্রতিক অভিযোগ সেই পুরনো বিতর্ককেই যেন নতুন করে উসকে দিল। যদিও অভিযুক্ত ফয়জল আনসারির দাবির সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশ্বাসযোগ্য বা জোরালো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় ও আত্মবিশ্বাসী রয়েছেন উরফি জাভেদ।