দেশের নিরাপত্তা মহলে তোলপাড়! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে এক নিঃশব্দ কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের হদিস পেলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দারা। যৌথ অভিযানে গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়েছে এমন এক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংস্থার নেটওয়ার্ক, যা খোদ আমেরিকা ও ইসরায়েলের মতো মহাশক্তিধর দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে।
ভারী অস্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্ক ভারতের মাটিতে বড়সড় কোনো নাশকতার ছক কষছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের এই সফল অপারেশনকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কীভাবে চলল এই রোমহর্ষক অপারেশন?
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্তরের কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং ডার্ক ওয়েবের বার্তার ওপর নজর রাখছিলেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সেই সূত্র ধরেই গুজরাটের একাধিক গোপন আস্তানায় একযোগে হানা দেয় এটিএস (ATS) এবং কেন্দ্রীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ইসরায়েল ও আমেরিকার কড়া নজরদারি এড়াতে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীটি ভারতের ‘সেফ জোন’ হিসেবে মোদী রাজ্যকে বেছে নিয়েছিল এবং স্থানীয় কিছু যুবকের মগজধোলাই করে স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা করছিল।
ইসরায়েল-আমেরিকার নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা সংগঠন
ধৃতদের জেরা করে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু এনক্রিপ্টেড ল্যাপটপ, বিদেশি সিম কার্ড এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ও ধর্মীয় স্থানগুলোর মানচিত্র। জানা গেছে, এই সংগঠনটি মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad) বহু বছর আগেই এটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে: “ভারতের বুকে এই ধরণের আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয় হয়ে ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তবে উৎসব ও ভিড়ের মরসুম শুরু হওয়ার আগেই গোয়েন্দারা যেভাবে এই মডিউলটিকে চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর পেছনে আরও বড় কোনো বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে ধৃতদের একটি গোপন ডেরায় রেখে ম্যারাথন জেরা চালানো হচ্ছে। দেশের সুরক্ষায় গোয়েন্দাদের এই দুর্দান্ত সাফল্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান এবং দেশের সুরক্ষায় এই খবরটি শেয়ার করুন।





