“মোদীকে চাপ দেওয়া অর্থহীন!”-ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ: পুতিন

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতির প্রতি ফের একবার অকুণ্ঠ সমর্থন জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ সংস্থাগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা একেবারেই অকার্যকর এবং ক্ষতিকর।

‘মোদীকে চাপ দেওয়া অর্থহীন’

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বারবার ভারতকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে পুতিন বলেন, “বিশ্ব এখন জেনে গেছে যে, বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের নেতা নরেন্দ্র মোদীকে চাপ দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক—উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর।” রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার প্রশ্নে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপকে তিনি অদূরদর্শী বলে মনে করছেন।

ভারতকে ‘নির্ভরযোগ্য পার্টনার’

হিসেবেই দেখছে রাশিয়া আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “আমরা ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত করছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ভারতকে আমরা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত পার্টনার হিসেবে দেখি।” পুতিনের মতে, ভারত একটি মহান দেশ এবং যেকোনো সিদ্ধান্তে সর্বদা নিজের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়।

১০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা জ্বালানি, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে অটুট রয়েছে, তা এদিন ফের স্পষ্ট করেছেন পুতিন। দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ?

আমেরিকা ও পশ্চিমি দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন যে বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলছে, পুতিনের এই বক্তব্য তারই প্রতিফলন। ভারতের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষার এই দৃঢ়তাকে তিনি বিশ্ব নেতৃত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy