মোদির ঘুম উড়েছে! বিজেপি-আরএসএসকে তুলোধনা করে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-কে ফের একবার তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লির মভলঙ্কর হলে আয়োজিত ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কড়া আক্রমণ করেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ভারত রাষ্ট্র, দেশের দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস এবং মহান দর্শন সম্পর্কে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের গভীর কোনো ধারণাই নেই। এই কনভেনশন থেকেই তিনি বর্তমান কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিদেশনীতি, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং আরএসএসের মূল রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে একযোগে সরব হন।
রাহুল গান্ধীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, বিজেপি ও আরএসএসের রাজনৈতিক দর্শনের প্রধান লক্ষ্য হলো নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির উপযোগী একটি বাধ্যতামূলক ‘শৃঙ্খলা’ বা নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো জোর করে ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস দলের মূল কাজ হলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ করে দেওয়া এবং এই সমস্ত অগণতান্ত্রিক ও আরোপিত কাঠামো ভেঙে চুরমার করে দেওয়া। বর্তমান সময়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ জোরালোভাবে তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষ ও জনতার কণ্ঠস্বরকে দমন বা থামিয়ে দিয়ে কখনো প্রকৃত ‘শৃঙ্খলা’ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর নয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি নিশানা করে রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নরেন্দ্র মোদি রাতে ঘুমাতেও পারেন না।’ এই নিদ্রাহীনতার পেছনে বেশ কয়েকটি জোরালো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কটাক্ষ করতে এতটুকু ছাড়েননি বিরোধী দলনেতা। তাঁকে গণমাধ্যমের একাংশের দ্বারা ‘চাণক্য’ ও ‘সর্দার প্যাটেল’ হিসেবে পরিচিত করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট ও ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল আবহে প্রায় কুড়ি দিন ধরে সংসদে তাঁকে দেখাই যায়নি, তিনি কোথায় উধাও হয়ে গেলেন?
কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতিকে কাঠগড়ায় তুলে রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, বর্তমান ইরান-যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের একটি বিরাট ও ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সুযোগ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, ইরান ভারতের বহু পুরনো এবং পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। একইসঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়া ও আমেরিকার সঙ্গেও ভারতের দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই তিনটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে সুচারুভাবে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্র সরকার সেই সোনালী সুযোগ হাতছাড়া করেছে এবং সেই শূন্যস্থান দখল করেছে পাকিস্তান। রাহুলের গুরুতর অভিযোগ, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন দর্শকের ভূমিকা পালন করছিলেন, তখন পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি জানান, এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে ঘৃণা কিংবা হিংসার লড়াই নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সরকারের ওপর এই রাজনৈতিক চাপ সমানভাবে বজায় থাকবে। তবে এই লড়াই চলবে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব এবং অহিংসার পবিত্র আদর্শকে সামনে রেখেই।