মেসি-কাণ্ডে ফের কোণঠাসা অরূপ বিশ্বাস! ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তৃতীয়বার তলব করল পুলিশ

লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ঘটনায় আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ওপর। গত বছর ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এবার অরূপ বিশ্বাসকে তৃতীয়বারের জন্য নোটিশ পাঠাল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগের দুই নোটিশে সাড়া না দিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে। নোটিশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। অন্যথায়, আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে, যখন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা মেসির উপস্থিতিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অব্যবস্থার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়। প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক টিকিট কেটে মাঠে উপস্থিত থাকলেও তাঁদের বড় অংশই প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ। অনুষ্ঠান শেষে ভিআইপি দৌরাত্ম্য, টিকিট বণ্টনে অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেই শতদ্রু বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

শতদ্রুর দাবি, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দাবি করেছিলেন। সেই দাবি পূরণ না হলে অনুষ্ঠান বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শতদ্রু দত্তের আরও অভিযোগ, ওই টিকিটগুলোর একটি বড় অংশ কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, মেসির জেড-প্লাস নিরাপত্তার নিয়ম ভেঙে বহু অননুমোদিত ব্যক্তিকে মাঠে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে মেসি নিজে বিরক্ত হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ৫ জুন হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে পুলিশকে চিঠি দেন এবং ১৪ দিন সময় চান। কিন্তু তদন্তের প্রয়োজনে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণেই পুনরায় নোটিশ পাঠিয়েও সাড়া না মেলায় তৃতীয়বারের জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এখন রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলের নজর, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এইবার পুলিশের ডাকে সাড়া দেন কি না। মেসি-কাণ্ডের তদন্ত যত গভীরে এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এই মামলার আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।