গুগলে রোগ খুঁজে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন? আপনার এই অভ্যেস কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে দেখুন!

হালকা পেট ব্যথা কিংবা সামান্য মাথা ঘোরা—রাত ২টোর সময় গুগল সার্চ বারে লিখলেন লক্ষণগুলো। রেজাল্ট আসতেই আতঙ্কিত আপনি! ক্যান্সার, স্ট্রোক কিংবা ব্রেন টিউমার—গুগল সার্চে যেন যমরাজই হাজির। এই পরিচিত দৃশ্যটি এখন ডিজিটাল যুগের বড় সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাইবারকন্ড্রিয়া’ (Cyberchondria)। ইন্টারনেটে রোগ খোঁজার এই নেশা এখন এক নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে গুগল করেন। প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ গুগলের তথ্য দেখে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইন্টারনেটে করা ৮০ শতাংশ সার্চের রেজাল্ট অত্যন্ত ভয়ংকর কিছু রোগের ইঙ্গিত দেয়। কেন এমনটা হয়? গুগলের অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো যে, সার্চ রেজাল্টে সবথেকে গুরুতর রোগগুলো আগে দেখায়, কারণ তাতে ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এতে সাধারণ মাইগ্রেনের সমস্যাও মুহূর্তের মধ্যে ‘ব্রেন টিউমার’-এর ভয় ধরিয়ে দেয়। এর ফলে প্রতি ৩ জনের ১ জন রোগী গুগলের তথ্যের সঙ্গে ডাক্তারের কথা না মিললে চিকিৎসক বদলে ফেলেন, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।

কিন্তু এই দায় কার? প্রথমত, গুগল তথ্যের ভাণ্ডার হলেও তা চিকিৎসক নয়। ক্লিক পাওয়ার নেশায় অনেক ওয়েবসাইট শিরোনামে লেখে ‘এই লক্ষণ মানেই ক্যান্সার’। ভয় বিক্রি করেই এরা ভিউ বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, আমাদের ধৈর্যহীনতা। অর্ধেক তথ্য পড়ে নিজে নিজেই রোগ নির্ণয় করে ফেলি। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। ডাক্তারের কাছে সময়ের অভাব থাকায় রোগীরা সব কথা খুলে বলার সুযোগ পান না, ফলে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হন।

‘ডক্টর গুগল’ ব্যবহারের ৩টি সোনার নিয়ম:
১. তথ্য নিন, রোগ নির্ণয় করবেন না: গুগল থেকে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করুন, কিন্তু নিজেকে রোগী সাব্যস্ত করবেন না।
২. বিশ্বস্ত সাইট পড়ুন: যেকোনো ব্লগ না পড়ে WHO, NHS বা নামী হাসপাতালের ওয়েবসাইট দেখুন। ডোমেইন দেখে চেনার চেষ্টা করুন (.gov বা .org নির্ভরযোগ্য)। ইউটিউবের ‘টোটকা’ ভিডিও এড়িয়ে চলুন।
৩. ডাক্তারের সাথে কথা বলুন: গুগলে কী পড়েছেন তা লজ্জা না পেয়ে ডাক্তারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন। একজন ভালো ডাক্তার আপনার ভুল ধারণা ভাঙিয়ে দেবেন।

কখন গুগল নয়, হাসপাতালই ভরসা?
বুকের বাঁ দিকে প্রচণ্ড চাপ, শ্বাসকষ্ট, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক দিক অবশ হওয়া বা প্রচণ্ড পেট ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি করবেন না। এই পরিস্থিতিতে গুগল সার্চ বন্ধ করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান বা জরুরি নম্বরে কল করুন। মনে রাখবেন, ১০ বছরের ডাক্তারি পড়ার অভিজ্ঞতার বিকল্প ১০ মিনিটের গুগল সার্চ হতে পারে না। তথ্য জানা ভালো, কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা বিপজ্জনক। শরীরের যেকোনো সমস্যায় শেষ কথা একমাত্র চিকিৎসকেরই।