মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! ১৮ দিন পেরিয়েও অনড় অবস্থান, কেন্দ্রকে বড় চ্যালেঞ্জ আন্দোলনকারীদের

দেশের রাজধানীতে ১৮ দিন ধরে চলছে এক অটল লড়াই। কেন্দ্র সরকারের নীরবতাকে উপেক্ষা করে বুধবার, ১৫ জুলাই নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ১৮তম দিনে তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। শরীরে পেশির ভর (Muscle Mass) আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, রক্তচাপ নেমে দাঁড়িয়েছে ১০৯/৭০-এ। গত ২৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত তাঁর ওজন কমেছে ৮.৪ কেজিরও বেশি। যন্ত্রণাকাতর সোনম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। সরকারকে জিজ্ঞেস করুন, তারা কেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে এত ভয় পাচ্ছে?”

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক্স হ্যান্ডেলে সোনমের শারীরিক অবস্থার প্রতিদিনের খতিয়ান তুলে ধরছেন। এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ও নিট দুর্নীতির বলি পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সিজেপি-র এই আন্দোলন ২৬ দিনে পা দিল।

সোনম ওয়াংচুককে বাঁচাতে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে টিনসেল টাউন—সবার আবেদন তীব্র হচ্ছে। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনমের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কাতর আরজি জানিয়ে বলেছেন, “কোটি কোটি যুবকের জন্য আপনার বেঁচে থাকা জরুরি।” আগামী বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই বিকেল ৫টায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল সশরীরে যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনমের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার যন্তরমন্তরে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন অরুন্ধতী রায়, নাসিরুদ্দিন শাহ ও অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর, জিনাত আমন ও রুবিনা দিলাইকও সরকারের প্রতি আলোচনার বার্তা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা পিছু হঠতে নারাজ। কেবল সোনম নন, আইসা-র চারজন পড়ুয়াও আমরণ অনশনে রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। সিজেপি ও সোনমের সমর্থকেরা ওই দিনই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এক বিশাল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। সরকার শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে আসে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।