মুর্শিদাবাদে বড়সড় ভাঙন! তৃণমূলের হাতছাড়া হল আরও এক পঞ্চায়েত সমিতি, কংগ্রেসের দখলে বড়ঞা

জানা গিয়েছে, এর আগে বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুলতানা খাতুন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির ২৫ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পঞ্চায়েত সমিতির মোট ২৫ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জন কংগ্রেসের ছিলেন এবং বাকি ১৭ জন তৃণমূল সদস্য সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে তৃণমূলের পূর্বতন সভাপতি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছিল।
মঙ্গলবার বড়ঞা ব্লক চত্বরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সঙ্গে ভোটপর্ব শুরু হয়। ভোটের ফল প্রকাশের পরই বড়ঞা ব্লক চত্বরে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নতুন সভাপতি নাজমা খাতুনকে মালা পরিয়ে বরণ করে নেন সমর্থকরা। বড়ঞার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে ঘিরে জেলাজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নতুন বোর্ডের অধীনে পঞ্চায়েত সমিতির দৈনন্দিন কাজকর্ম কীভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।
দলবদল ও অনাস্থা প্রস্তাবের পর থেকেই ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে চরম টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছিল। কদিন আগেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যরা গোপনে কংগ্রেসে যোগ দেন। কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলবদল করা এই নির্বাচিত সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছিল এবং মঙ্গলবার সরাসরি আস্থা ভোটে তাদের হাজির করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তৃণমূল সম্পূর্ণ পিছিয়ে পড়েছে এবং কংগ্রেস অনায়াসে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা মহম্মদ আজাহার (সিজার) এই জয়ের পর জানান, “আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিলাম। আমাদের প্রিয় নেতা অধীর চৌধুরীর নির্দেশমতো আমরা এবার সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ব।” স্থানীয় রাজনীতিতে এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।