মুর্শিদাবাদে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কা, গেটম্যানের ‘মদ্যপ’ কীর্তি নিয়ে বিস্ফোরক অধীর, রেলমন্ত্রীকে ফোন করে কী দাবি জানালেন?

মুর্শিদাবাদের খাগড়াগাট রোড ও কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের মধ্যবর্তী রেল ক্রসিংয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন, যার মধ্যে দুইজনই স্কুল পড়ুয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎক্ষণাৎ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ফোন করেন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে অধীর চৌধুরীর কথোপকথন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। অধীর চৌধুরী রেলমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানান, এলাকার মানুষের বড় অভিযোগ রয়েছে গেটম্যানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বরত গেটম্যান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এরপরই রেলমন্ত্রী মন্ত্রীকে গেটম্যানের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এখানেই থেমে থাকেননি অধীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মন্ত্রীর কাছে আরও দাবি করেন, লেভেল ক্রসিংয়ের ক্যামেরাটিকে কৌশলে উপরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে দুর্ঘটনার আসল কারণ গোপন করা যায়। অধীর চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “রেলমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং একজন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আমি মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।”

একইসঙ্গে রেলের পরিকাঠামো নিয়ে সুর চড়িয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভারত আজ হাইড্রোজেন ট্রেন ও বুলেট ট্রেনের পথে এগোচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বেসিক পরিকাঠামো আজও কতটা নড়বড়ে! কেন প্রশিক্ষণহীন বা দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মীকে এমন সংবেদনশীল জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে? এটি কি শুধুই গাফিলতি, নাকি রেলের সুরক্ষার অভাব?” তিনি গেটম্যানকে এই দুর্ঘটনার ‘মূল অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রেল কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে প্রথমে অভিযুক্ত গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়। পরবর্তীতে গেটম্যানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে রেল। তবে টাকা বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ কি ফিরিয়ে আনতে পারবে হারিয়ে যাওয়া দুই শিশুকে? প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। এলাকা জুড়ে এখন শোকের পাশাপাশি চলছে রেলের গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রশাসন এখন দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।