মুখ্যমন্ত্রীকে ওড়ানোর মেগা ষড়যন্ত্র! শুভেন্দুর বাড়ির সামনে রেকি করতে গিয়ে কীভাবে ধরা পড়ল জঙ্গি হামিম?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) টার্গেট করে এক ভয়ঙ্কর নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল। জঙ্গি সন্দেহভাজন হিসেবে মহম্মদ হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal) নামে এক কুখ্যাত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। তদন্ত শুরু হওয়ার শুরুতেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের (STF) গোয়েন্দাদের কাছে এটি জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং-এর এই বিপজ্জনক সদস্যের মূল নিশানায় রয়েছেন খোদ রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করেই সুপরিকল্পিতভাবে এলাকায় দফায় দফায় রেকি বা রেইকি করা হচ্ছিল বলে জোরালো দাবি করেছে গোয়েন্দা সূত্র। আর এবার ধৃত হামিমকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মুখ থেকে আরও একগুচ্ছ হাড়হিম করা তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা গোয়েন্দা মহলেও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এসটিএফের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ধৃত হামিম মণ্ডলের মূল লক্ষ্য ছিল কলকাতার অভিজাত চিনার পার্ক এবং নিউ টাউন এলাকা। জেরা করার পর গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই জঙ্গি চিনার পার্কে অবস্থিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অত্যন্ত সুনিপুণভাবে রেকি করে এসেছিল। যদিও সে বাড়িটার কাছাকাছি গিয়ে পুরো এলাকাটি সচক্ষে দেখে এসেছিল, কিন্তু গোয়েন্দাদের জেরায় সে স্বীকার করেছে যে কড়া নিরাপত্তার কারণে সে ওই বাড়ির কোনো ছবি বা ভিডিও তুলতে পারেনি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও তার আশেপাশের পুরো চত্বরটি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে থাকার কারণে সে কোনো ছবি সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবনই নয়, গোয়েন্দাদের বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় বা গাড়িবহর যে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাতায়াত করে, সেই রুটটিও পুরোপুরি রেকি করে দেখা হয়েছিল। নিউ টাউনের যে অংশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় নিয়মিত চলাচল করে, সেই রাস্তাটি ঘুরে দেখতে বিশেষ ক্যাব বা ট্যাক্সি ভাড়া করে গিয়েছিল অভিযুক্ত হামিম। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিসিটিভির কড়া নজরদারি এড়িয়েই সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই সমস্ত রেকি করা এবং গোপন তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন যে, শুধু রাজ্য তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার ছক কষাই নয়, বরং জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের সময়ও বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল এই সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি। পাকিস্তান থেকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসবাদী নির্দেশ আসত এই হামিমের কাছে। এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বেঙ্গল এসটিএফ একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করে এই ধরনের বহু বিস্ফোরক তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে এসেছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্র এত বড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল, তা নিয়ে এখন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে দেশের এবং রাজ্যের শীর্ষ গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি।