মুকাম্বিকা মন্দিরে বিশেষ পুজো তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর, উপহার দিলেন ১.৬ কেজি ওজনের রুপোর তলোয়ার!

১২ জুন, শুক্রবার কর্ণাটকের উদুপি জেলার বাইন্দুর তালুকের কোল্লুরে অবস্থিত বিখ্যাত মুকাম্বিকা দেবী মন্দিরে উপস্থিত হন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। এই সফরকে ঘিরে মন্দির চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও ভক্তদের ভিড়।

মন্দিরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মঙ্গলাচরণ সম্পন্ন করেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রামচন্দ্র আদিগা। বিশেষ পূজার পর পুরোহিতরা বিজয়ের হাতে একটি ‘রক্ষাধারা’ (পবিত্র সুতো) বেঁধে দেন, যা দক্ষিণ ভারতে অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩০ মিনিট মন্দিরে অতিবাহিত করে দেবী মুকাম্বিকার কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তিনি।

এই সফরের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর উপহার। বিজয়ের প্রতীক হিসেবে তিনি মন্দিরের প্রধান বিগ্রহের চরণে ১.৬ কেজি ওজনের একটি রুপোর তলোয়ার নিবেদন করেন। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান, যেন এই তলোয়ারটি প্রতিদিনের পূজায় ব্যবহার করা হয়।

কেন এই মন্দির এত গুরুত্বপূর্ণ? মুকাম্বিকা দেবী মন্দির কর্ণাটক ও কেরালার মানুষের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে স্বীকৃত। প্রায় ১২০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরের ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য অপরিসীম। জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আদি শঙ্করাচার্য নিজেই এই মন্দিরের নকশা করেছিলেন এবং দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুকাম্বিকা দেবীকে আদি পরাশক্তির অবতার মনে করা হয়, যিনি একই সঙ্গে শক্তি, সরস্বতী এবং মহালক্ষ্মীর প্রতীক।

শিক্ষার্থী এবং জ্ঞানপিপাসুদের কাছে এই মন্দির বিশেষভাবে পবিত্র। বিশ্বাস করা হয়, নবরাত্রির সময় দেবীর কৃপা লাভ করলে জ্ঞান, শক্তি ও সমৃদ্ধির ভাণ্ডার খুলে যায়। তাই বহু মানুষ তাদের সন্তানদের হাতেখড়ি বা শিক্ষারম্ভের আগে এই মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে আসেন। মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে বিরাজমান, যা ভগবান শিব ও শক্তির এক অপূর্ব সমন্বয়।

আদি শঙ্করাচার্যের প্রবর্তিত শ্রীচক্র স্থাপন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত পূজাপদ্ধতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয় এই মন্দিরে। এছাড়া, এখানে থাকা পঞ্চমুখী গণেশের মূর্তিটিও ভক্তদের নজর কাড়ে। নবরাত্রি এবং বিজয়াদশমীর সময় এখানে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আধ্যাত্মিক সফর বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।