মিড-ডে মিলের পাতে ডিম নেই কেন? ইসকনের দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন মহুয়া মৈত্রের

স্কুল পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের খাদ্যতালিকা এবং এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি একটি জনসভায় যোগ দিয়ে মহুয়া মৈত্র মিড-ডে মিল প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং ইসকনের (ISKCON) ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মূল প্রশ্ন—সরকারি এই পুষ্টিকর প্রকল্পে পড়ুয়াদের পাতে ডিম থাকছে না কেন?

মহুয়া মৈত্রের দাবি, মিড-ডে মিল প্রকল্প মূলত পড়ুয়াদের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। সেখানে ডিম একটি অত্যন্ত সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু ইসকনের মতো সংস্থাকে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে মেনু থেকে ডিম বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের কথায়, “ইস্কন আমাদের সংস্থা নয়, তারা মূলত নিরামিষাশী। শিশুদের বিকাশের জন্য যে প্রোটিনের প্রয়োজন, তা এই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন? বাচ্চারা কি অপুষ্টিতে ভুগবে?”

মহুয়া মৈত্র আরও অভিযোগ করেন যে, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত মতাদর্শ যখন সরকারি প্রকল্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তার শিকার হয় সাধারণ পরিবারের পড়ুয়ারা। অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এই মিড-ডে মিলের ওপর নির্ভর করে। সেখানে তাদের পুষ্টির কথা মাথায় না রেখে মেনু নির্ধারণ করা অসংবেদনশীল। তিনি সরাসরি রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জবাব চেয়েছেন, কেন পড়ুয়াদের মেনুতে ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না?

এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। বিজেপি এবং বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্র শুধুমাত্র বিতর্কের খাতিরে এই ধরনের কথা বলছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের একাংশ মহুয়া মৈত্রের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, শিশুদের পুষ্টি নিয়ে আপস করা উচিত নয়। ইসকনের মতো সংস্থা ভালো খাবার সরবরাহ করলেও, পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী মেনু তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও মিড-ডে মিলের মান এবং রান্নার দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিতর্ক হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে যেন নতুন ঘি ঢালল। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষাদপ্তর বা ইসকন কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দেয় কি না। শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং তাদের শারীরিক গঠনের কথা মাথায় রেখে মিড-ডে মিলের মেনু পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন সাংসদ।