মিড-ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন! বিতর্কের মাঝেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে দানা বাঁধা বিতর্কের আবহে নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদের যাবতীয় সমালোচনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার ইসকন মন্দিরে ৭১তম রথযাত্রা উৎসবে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, রাজ্যের সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ইসকনকে দায়িত্ব দিলে স্কুলের পড়ুয়ারা ডিমের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু সেই বিতর্ককে আমল না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ অগস্ট থেকেই কলকাতায় এই নতুন ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। কলকাতার একটি বড় অংশের সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্ব এখন থেকে ইসকনের হাতেই থাকবে। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মিড-ডে মিলের গুণমান বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের লক্ষ্য। ইসকন এই কাজে নতুন নয়; তারা ইতিমধ্যেই ভারতের ২২টি বড় শহরে অত্যন্ত সফলভাবে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের পড়ুয়াদের পুষ্টিকর আহার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মূলত সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানরাই পড়াশোনা করে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মিড-ডে মিল মূলত নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাই গ্রহণ করে। কোনো স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান এই খাবার খায় না। তাই তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেওয়া এবং অপুষ্টি দূর করা সরকারের কর্তব্য। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং দুর্নীতিমুক্ত মিড-ডে মিল ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
অতীতে রাজ্যের মিড-ডে মিল ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ এদিন উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতীতে বাংলায় মিড-ডে মিল নিয়ে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা একেবারেই কাম্য নয়। একে আমি ‘পাপ কাজ’ বলে মনে করি। আমাদের শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া আমাদের কর্তব্য এবং সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা ইসকনকে এই দায়িত্ব দিয়েছি। দুর্নীতিমুক্ত, পুষ্টিকর এবং স্বচ্ছ একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ৫ অগস্ট থেকে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।