ডায়েট থেকে ঘি বাদ দেওয়ার আগে সাবধান! আপনার শরীর কি বলছে জানেন?

অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, নিয়মিত ঘি খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়া অধিকাংশ সুস্থ মানুষের শরীরের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পদ্ধতির ওপর।

প্রথমে বোঝা প্রয়োজন ঘি আসলে কী। মাখনকে মৃদু আঁচে ধীরে ধীরে গরম করে তার জলীয় অংশ বাষ্পীভূত করার পর দুধের কঠিন অংশ আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার পর যে সোনালি রঙের চর্বি বা ফ্যাট অবশিষ্ট থাকে, সেটিই হলো আমাদের পরিচিত সুস্বাদু ও সুগন্ধী ঘি। এতে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় অত্যন্ত জরুরি কিছু ভিটামিন থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।

তবে ঘিতে ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশ উচ্চ মাত্রায় থাকে। ‘দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এর গবেষণায় ঘিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘিতে থাকা উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়, তবে তা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তে এই খারাপ কোলেস্টেরল দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই কারণেই চিকিৎসকরা ঘি খাওয়ার পরিমাণের ওপর সবসময় কড়া নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, সারাদিনের মোট স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ যদি একটি নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে থাকে, তবে নিয়মিত ঘি খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। অল্প পরিমাণ ঘি আপনার প্রতিদিনের সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি চমৎকার অংশ হতে পারে। তাই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে খাদ্যতালিকা থেকে ঘিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

শরীরের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পাশাপাশি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বা অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যতালিকায় অলিভ অয়েল, কাঠবাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ কিংবা সামুদ্রিক মাছের মতো উপাদান রাখলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এর ফলে শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াও দারুণভাবে উন্নত হয়।

বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই বলেন, শরীরকে সুস্থ রাখতে সব ধরনের চর্বি জাতীয় খাবার একেবারে বর্জন করা উচিত নয়। কারণ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম সচল রাখা এবং সঠিক হরমোন নিঃসরণের জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি অপরিহার্য। আসল কৌশল হলো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সঠিক ফ্যাট বেছে নেওয়া। পরিমিত জীবনযাপনের পাশাপাশি মাঝে মাঝে খাবারে অল্প পরিমাণ ঘি ব্যবহার করলে বড় ধরনের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। তবে ঘি খাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে এর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।