মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য! তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে কী বললেন মন্ত্রী?

কলকাতায় এসে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর পঠনপাঠন পদ্ধতি নিয়ে অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর সেই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তথা বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার তসলিমা নাসরিনের সেই বক্তব্যের কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট মন্ত্রী ও জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তসলিমা নাসরিনকে সরাসরি আক্রমণ করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এসে তসলিমা নাসরিন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর সিলেবাস নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন এবং কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি ছিল, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গেলে এই ধরনের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির পাঠ্যক্রমে ব্যাপক রদবদল প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। ইসলামি শিক্ষা এবং মাদ্রাসার ভূমিকা নিয়ে তসলিমার এই ধরনের প্রকাশ্য সমালোচনাকে ভালো চোখে দেখেননি রাজ্যের সংখ্যালঘু নেতারা।
তসলিমার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, যারা ইসলামি শিক্ষা ও মাদ্রাসার মূল ভিত্তি সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না, তাঁরাই এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে থাকেন। তাঁর মতে, বাংলার মাটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা লক্ষ লক্ষ গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে আলোর পথ দেখিয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে সমাজের মূল স্রোতে তাদের ফিরিয়ে আনতে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। সিদ্দিকুল্লাহ অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান, এই ধরনের ভিত্তিহীন সমালোচনা করে সমাজে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তসলিমা নাসরিন ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই বাকযুদ্ধ নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই দুই ব্যক্তিত্বের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেখানে একদল বুদ্ধিজীবী শিক্ষার আধুনিকীকরণের পক্ষে সওয়াল করছেন, অন্যদিকে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা কাঠামোর রক্ষাকর্তারা এর তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তসলিমার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।