মাঝ আকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান! আতঙ্কে ফেটে গেল যাত্রীর কানের পর্দা!

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 ফ্লাইটের প্রকাশ্যে আসা নতুন ভিডিওগুলি যাত্রীদের সেই ভয়াবহ মুহূর্তগুলোর এক শিহরণজাগানো ছবি তুলে ধরেছে, যখন বিমানটি উড়ানের সময় প্রবল টার্বুল্যান্সের মুখে পড়েছিল। নতুন প্রকাশিত ভিডিওগুলিতে, যা এয়ারবাস A320neo বিমানটির ভিতরে তোলা হয়েছিল, দেখা যায় প্রবল ঝাঁকুনির পর বিমানের প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হঠাৎ কমে যাওয়ার পর প্রবল সমস্যায় পড়ে যায়। আরেকটি ভিডিওতে টার্বুল্যান্স আঘাত হানার পর বিমানের ভিতরে যাত্রীদের আতঙ্কিত হয়ে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। আরও কিছু ভিডিওতে টার্বুল্যান্সের তীব্রতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যাতে একাধিক যাত্রী এবং কেবিন ক্রু আহত হন। ভিডিওগুলিতে ঘটনাটির পর বিমানের কেবিনের ভিতরের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশও ধরা পড়েছে। সেখানে যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতি এবং চারপাশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে দেখা যায়। এই ঘটনার পর ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানে থাকা যাত্রীদের তোলা কয়েকটি ছবিতে কেবিনের ছাদের ওপর স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। ছবিগুলি থেকে বোঝা যায়, প্রবল ঝাঁকুনিতে বিমানটি কতটা জোরালোভাবে কেঁপে উঠেছিল। আরও একটি ছবিতে মাঝআকাশে তীব্র টার্বুল্যান্সের পর বিমানের ভিতরে সুইচগুলির কাছাকাছি অংশে কিছু ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ধরা পড়েছে। কেবিনের ছাদের ক্ষয়ক্ষতি টার্বুলেন্সের তীব্রতার প্রমাণ: বিমানের কেবিনের ওপরের সিলিং প্যানেলের কিছু অংশ খুলে যায় এবং কেবিনের ছাদে স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বিমানটি হঠাৎ তীব্রভাবে একদিকে কাত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন থেকে ছিটকে পড়েন। ওই যাত্রীর দাবি, আকস্মিক ঝাঁকুনির কারণে অন্তত একজন যাত্রীর কানের পর্দা ফেটে যায়। আরেক যাত্রী জানান, বিমানটি হঠাৎ অনেকটা নিচে নেমে যাওয়ায় কয়েকজন যাত্রীর মাথা কেবিনের ওপরের অংশে জোরে আঘাত লাগে এবং তাঁরা আহত হন।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস A320neo বিমান AI2379 মঙ্গলবার সকালে উড়ানের সময় হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। তবে পরে বিমানটি সকাল ১১টা ৭ মিনিটে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, উড়ানের সময় বিমানটির উচ্চতায় সাময়িক ওঠানামা হলেও পরে সেটি নিরাপদভাবে স্থিতিশীল হয়ে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানটিকে হ্যাঙ্গারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তদন্তকারীরা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিসিএ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক যৌথভাবে তদন্তের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ডিজিসিএর এক শীর্ষ কর্মকর্তা পিটিআই-কে জানান, বিমানের উচ্চতা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঘটনায় পাইলট-ইন-কমান্ড রিপোর্ট করেছেন যে, একজন কেবিন ক্রু গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, আরও একজন কেবিন ক্রু আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন যাত্রী সামান্য চোট পেয়েছেন। আহত এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীদের দেখতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু, বেসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব সমীর কুমার সিনহা এবং ডিজিসিএর মহাপরিচালক বীর বিক্রম যাদব-কে সঙ্গে নিয়ে দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁরা আহত যাত্রীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।