মাথার দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা! চাঞ্চল্যকর অভিযানে সুদূর অসম থেকে হাতেনাতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে চাঞ্চল্যকর বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। দীর্ঘ ১ হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ল অরূপ দাস নামের এক অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। গুয়াহাটি থেকে দিল্লিগামী একটি চলন্ত ট্রেন থেকে সুকৌশলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে একে একে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনেই প্রকাশ্য রাস্তায় নির্মমভাবে খুন করা হয় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল অভিযুক্তসহ একাধিক ব্যক্তি পলাতক ছিল। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত অরূপ দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে বেড়াচ্ছিল। তার হদিশ পেতে এবং নাগাল ধরতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার বা ক্যাশ রিওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খাস গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খবরের ভিত্তিতে অরূপ দাসের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় সিবিআই। এরপর গুয়াহাটি থেকে দিল্লিগামী একটি এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর ধৃত তৃণমূল কর্মীকে স্থানীয় আদালতের নির্দেশে ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাকে গুয়াহাটি থেকে সরাসরি কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কলকাতায় পৌঁছানোর পরেই তাকে নির্দিষ্ট আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই খুনের ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কী কারণ ছিল এবং ঘটনার দিন ঠিক কারা কারা সরাসরি যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে অরূপ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করতে চাইছে সিবিআই। উল্লেখ্য, এই স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একে একে অভিযুক্তদের গ্রেফতারি এবং সিবিআইয়ের এই তৎপরতার ফলে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলবে বলেই মনে করছেন নিহত অভিজিৎ সরকারের পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা।