মাথাব্যথা মানেই কি মাইগ্রেন? ভুল ধারণায় বড় বিপদ! জেনে নিন আসল সত্য

মাথাব্যথা মানেই অনেকের কাছে তা মাইগ্রেনের সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয়। আবার উল্টোটি অর্থাৎ মাইগ্রেন মানেই যে শুধু মাথার যন্ত্রণা, এমন ধারণাও ভুল। চিকিৎসকদের মতে, মাইগ্রেন কেবল একটি সাধারণ মাথাব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে শরীরের আরও একাধিক গোপন ও মারাত্মক উপসর্গ। এমনকী মাথাব্যথা শুরু হওয়ার বহু আগেই শরীর থেকে নানা ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু হয়, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
মাইগ্রেনের ব্যথার ধরন বেশ আলাদা। এই সমস্যায় সাধারণত মাথায় স্পন্দন বা ধকধকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। তবে এর পাশাপাশি রোগীর প্রবল বমি ভাব বা বমি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হতে পারে যে, তীব্র আলো, জোরে শব্দ, কোনো বিশেষ গন্ধ এবং এমনকী শরীরের হালকা স্পর্শও রোগীর কাছে একেবারে অসহ্য ঠেকে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, পড়াশোনা কিংবা অফিসের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আসল বিপদ শুরু হয় ব্যথার আগের লক্ষণগুলো নিয়ে। মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে শরীর কিছু বিশেষ সতর্কবার্তা দেয়, যেমন বারবার হাই ওঠা, মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন, বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ। এছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আগে বা চলাকালীন ‘অরা’ দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, ছোট ছোট দাগ, রেখা কিংবা অদ্ভুত সব আকার ভেসে ওঠে। আবার অনেকের হাত ও মুখে সাময়িক ঝিনঝিনি বা অসাড় ভাব এবং কথা বলতেও সমস্যা হতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার, সব মাইগ্রেন রোগীর ক্ষেত্রে ‘অরা’ হয় না।
অ্যাটাক কমে যাওয়ার পরেও বিপদ কাটে না। মাইগ্রেনের আক্রমণ কেটে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ চরম দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঝাপসা লাগা বা বিভ্রান্তির মতো অনুভূতি থাকতে পারে। তবে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি? যদি পরপর ঘন ঘন মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়, ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তবে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কোনো বিশেষ খাবার বা ঘুমের অনিয়মের পর সমস্যা বাড়লে ‘মাইগ্রেন ডায়েরি’ রাখা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে এবং তার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হওয়া, খিঁচুনি বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।