টুরিস্ট সেজে সুটকেসে করে গাঁজা পাচার! হুগলির পাণ্ডুয়ায় পুলিশের নাকা তল্লাশিতে ফাঁস চাঞ্চল্যকর কায়দা

টুরিস্ট বা পর্যটক সেজে সুটকেসের ভেতর অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ছক সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে দিল হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। সাধারণ পর্যটকদের মতো পোশাক পরে এবং সঙ্গে ট্রলিব্যাগ নিয়ে ঘুরলেও শেষরক্ষা হল না। পুলিশের কড়া নাকা তল্লাশির মুখে পড়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে তিন পাচারকারী। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই ঘটনায় ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ১২ কেজি গাঁজা এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, গত বৃহস্পতিবার হুগলির পাণ্ডুয়ার খন্যান পূর্বপাড়ায় ঐতিহাসিক জিটি রোডের ওপর নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। সেই সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে একটি টোটোকে থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। টোটোটিতে থাকা তিন যুবকের কাছে দুটি বড় মাপের সুটকেস বা ট্রলিব্যাগ ছিল। তাদের গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক ঠেকয়ায় পুলিশকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই সুটকেস দুটি খুলে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশকর্মীদের। সুটকেসের ভেতর সুসজ্জিতভাবে রাখা একাধিক প্যাকেটের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিশাল পরিমাণ গাঁজা। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। ধৃত তিন ব্যক্তির নাম চাঁদ মহম্মদ, সচিন সাউ এবং রণ বিজয়। এদের মধ্যে চাঁদ মহম্মদের বাড়ি পাণ্ডুয়ারই মহাদেবপুর কলবাজার এলাকায়। বাকি দুই অভিযুক্তের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া ও জগদ্দল এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের মধ্যে সচিন সাউয়ের বয়স ৩৫ বছর এবং রণ বিজয়ের বয়স ৫৪ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি ট্রলিব্যাগে মোট প্রায় ১২ কেজি গাঁজা ছিল, যার বর্তমান কালো বাজারে আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। গাঁজার পাশাপাশি তাদের ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকাও বাজোপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি উপস্থিতিতে যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে জব্দের তালিকা বা সিজার লিস্ট তৈরি করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই পাচারকারীরা আইনকে ফাঁকি দিতে অত্যন্ত সুকৌশলী এক নতুন পদ্ধতি বেছে নিয়েছিল। তারা সম্পূর্ণ টুরিস্ট বা পর্যটকের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রথমে ট্রেনে করে তালান্ডু স্টেশনে এসে নামে। এরপর সেখান থেকে জিটি রোড ধরে নাকসা মোড় পর্যন্ত আসে এবং ২০০ টাকা দিয়ে একটি টোটো ভাড়া করে পাণ্ডুয়ার দিকে রওনা দেয়। সবার চোখে ধুলো দিতে এবং নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে তারা বেশ ভালো ও মার্জিত পোশাক পরেছিল। কিন্তু খন্যান এলাকার কাছে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশের বিচক্ষণ নজরদারি ও নাকা চেকিংয়ের মুখে পড়তেই তাদের সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

গত শুক্রবারই ধৃত তিন অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক সমস্ত দিক বিবেচনা করে ধৃতদের দশ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ এখন এই চক্রের মূল হোতা এবং এর পেছনে আরও অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে।