১২ বছরে উল্টে গেল ছবি! বিশ্বের দুর্বলতম অর্থনীতি থেকে কীভাবে আজ মহাশক্তি হয়ে উঠল ভারত?

আজ দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চলতি বছরের এই লালকেল্লার ভাষণে দেশের গত ১২ বছরের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং পরিকাঠামোগত সাফল্যের এক অভাবনীয় চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন যে, অতীতে যে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে অর্থাৎ তথাকথিত ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ (Fragile Five) বা দুর্বল পাঁচের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হতো, সেই ভারত আজ সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

ভাষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ের দেশীয় উন্নয়নের আমূল পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষের মনে বড় বড় স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কাঙ্খিত গতি পাওয়া যায়নি। তবে গত ১২ বছরে সেই শ্লথ গতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং আজ ভারত এক অভূতপূর্ব গতি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর ভারতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ভারতের কখনোই অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়। বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত করতে হবে। তিনি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশি’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ আন্দোলনের মতো জনমুখী উদ্যোগগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে দেশের প্রতিটি নাগরিক আজ এই রূপান্তরের অংশীদার হয়ে উঠেছেন।

দেশের রূপান্তরের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বিগত ১২ বছরের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিস্ময়করভাবে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উৎপাদন সাত গুণ, আধুনিক রেল কোচের উৎপাদন একুশ গুণ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই সময়ে দেশের ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে একশো গুণ। পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংযোগ, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ এবং শৌচাগার নির্মাণের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আমূল বদলে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, ভারত এখন আর থেমে থাকার পাত্র নয়। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর অদম্য সংকল্প এবং সঠিক সংস্কারের ওপর ভর দিয়ে দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরনো ও অবহেলিত আইনগুলোর ওপর ভর করে একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সংস্কারের গতি আরও ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। আজকের এই নতুন ও আত্মবিশ্বাসী ভারত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম।