মাঝ আকাশে বিকল ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিমানের জিপিএস! নেপথ্যে কি পুতিনের অদৃশ্য হাত?

মাঝ আকাশে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। এস্তোনিয়া সফর শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে তাঁর বহনকারী রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ডাসল্ট ফ্যালকন ৯০০এলএক্স বিমানটির জিপিএস (GPS) সিস্টেম হঠাৎই বিকল হয়ে যায়। রুশ সীমান্তের কাছাকাছি আকাশসীমায় এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন ঘণ্টার পুরো ফ্লাইট জুড়েই এই সমস্যা বজায় ছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মাঝ আকাশে তিন ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এস্তোনিয়ায় মোতায়েন থাকা ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে দেখা করে দেশে ফিরছিলেন। বিমানের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, জিপিএস সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার পর বিমানের ভেতরে থাকা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপগুলোতেও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প নেভিগেশন সিস্টেমের সাহায্য নিয়ে বিমানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় জানানো হয়েছিল যে, বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ফ্লাইটে কোনো ঝুঁকি নেই। তবে এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাট সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত কোনো সাইবার হামলা, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার দিকেই সন্দেহের আঙুল
জন হিলির বিমানের জিপিএস জ্যাম হওয়াকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। যেহেতু বিমানটি রুশ সীমান্তের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তাই রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠছে। এটি বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে বিমানটির অবস্থান দৃশ্যমান থাকায় এটি রুশ গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান রুশ আগ্রাসন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি
এই ঘটনার মাত্র একদিন আগেই যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। মন্ত্রণালয় জানায়, কৃষ্ণ সাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রাশিয়ার এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান একটি ব্রিটিশ গুপ্তচর বিমানের অত্যন্ত বিপজ্জনক কাছাকাছি চলে আসে। এর ফলে ব্রিটিশ বিমানটির জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অটোপাইলট ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এছাড়া, রাশিয়ার একটি এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ ‘রিভেট জয়েন্ট’ গোয়েন্দা বিমানের মাত্র ৬ মিটারের মধ্যে চলে আসে এবং বারবার সামনে দিয়ে উড়ে গিয়ে প্ররোচনা সৃষ্টি করে। ব্রিটেন এই ঘটনাকে ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ন্যাটো মিশনের অংশ হিসেবে এই গোয়েন্দা বিমানগুলো রাশিয়ার কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালায়। ব্রিটিশ মন্ত্রীর বিমানে এই পরিকল্পিত জ্যামিংয়ের ঘটনাটি যদি সত্যি রাশিয়ার কাজ হয়, তবে এটি যুদ্ধের নতুন মাত্রা—’ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা সাইবার যুদ্ধের একটি বড় উদাহরণ। ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জন হিলির বিমানের এই ঘটনা রাশিয়া-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনকে এক নতুন শিখরে নিয়ে গেল। প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy