মাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের বড় জাল! তিন এজেন্ট গ্রেফতার হতেই ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

কর্ণাটকের বাণিজ্য নগরী মাঙ্গালুরুতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের উদ্বেগজনক চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে মাঙ্গালুরু এবং তার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে গোপনে কাজ চালিয়ে যাওয়া এক শক্তিশালী অনুপ্রবেশকারী চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চালানো এক বিশেষ অভিযানে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ময়দিন ইসলাম, রসুল ইসলাম এবং দিলওয়ার হোসেন। এঁরা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে পরিচয় পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজন অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাঙ্গালুরু ও সংলগ্ন এলাকায় একটি সুসংগঠিত চক্র পরিচালনা করছিল। তাদের মূল কাজ ছিল অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ করানো এবং তাদের জন্য আস্তানা, খাবারের পাশাপাশি মাঙ্গালুরু ও এর আশেপাশের ছোট-বড় কারখানা, নির্মাণাধীন সাইট, হোটেল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। বিনিময়ে তারা ওই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে কয়েক ডজন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক মাঙ্গালুরু ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু বিতর্কিত নথি, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি কঠোর ফরেনার্স অ্যাক্ট এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাঙ্গালুরু শহরটি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বন্দর রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ শুধু দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, বরং সস্তায় শ্রম দেওয়ার ফলে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও কেড়ে নিচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এই অবাধ বিচরণ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। পুলিশের এই পদক্ষেপে অনুপ্রবেশবিরোধী লড়াই কিছুটা গতি পেলেও, মাঙ্গালুরুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত চলছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। আগামী দিনে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।