দেশজুড়ে চরম নাটকীয়তা আর টানটান উত্তেজনার মাঝে লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল বহুল চর্চিত মহিলা সংরক্ষণ এবং আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল। ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিলটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হল কেন্দ্রীয় সরকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংসদ চত্বর থেকে রাজনৈতিক মহল।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার লড়াইয়ে হার শাসকের শুক্রবার লোকসভায় মোট তিনটি বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। মোট ৪৮৯ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন। জয়ের জন্য শাসক এনডিএ-র (NDA) প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোট। কিন্তু বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি। অর্থাৎ, মাত্র ২৮টি ভোটের ব্যবধানে বড়সড় ধাক্কা খেল মোদী সরকার।
বিল প্রত্যাহারে বাধ্য সরকার: ক্ষুব্ধ রিজিজু লক্ষ্য ছিল নতুন জনগণনা ছাড়াই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং বিধানসভা ও সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা। কিন্তু ভোটাভুটিতে হারের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন,
“আজ মহিলাদের অধিকার দেওয়া গেল না। এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তবে আমরা তাঁদের অধিকার দেবই, আমরা এর জন্য দায়বদ্ধ।”
এই ঘটনার পরপরই লোকসভা অধিবেশন শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় খারিজ হওয়ায় এই বিল আর রাজ্যসভায় যাবে না।
রাহুল গান্ধীর পালটা তোপ অন্যদিকে, বিলটি খারিজ হওয়াকে ‘সংবিধানের জয়’ হিসেবে দেখছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়,
“মহিলাদের নাম করে আসলে সংবিধানকে আক্রমণ করার এক অসাংবিধানিক কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। লোকসভা আজ সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। এটা আসলে গণতন্ত্রের জয়।”
সংসদের অন্দরে ও বাইরে বিক্ষোভ বিল পাস না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এনডিএ জোটের মহিলা সাংসদরা। তাঁরা সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। আগামিকাল অর্থাৎ ১৮ এপ্রিল থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলির নেতাদের বাড়ির সামনে গিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে বিজেপি শিবির।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ। এখন দেখার, আগামীকাল অধিবেশন শুরু হলে বিতর্কের মোড় কোন দিকে ঘোরে।





