মহিলাদের জন্য বাম্পার উপহার! সরকারি বাসে মিলবে ‘পিঙ্ক কার্ড’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। বুধবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে একগুচ্ছ ইতিবাচক ঘোষণা করলেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সরকার জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির বিষয়ে কোনো আপস করবে না এবং প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কন্যাশ্রী-সহ বর্তমানে চালু থাকা রাজ্যের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আগের মতোই বহাল থাকবে। কোনো প্রকল্পই বন্ধ হবে না। যোগ্য মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান এজেন্ডা। এদিন মহিলাদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে তিনি এক যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলারা এখন থেকে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এই সুবিধার জন্য চালু করা হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’। তবে, যে সমস্ত কর্মজীবী মহিলারা নিজেরাই ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে সক্ষম, তাঁদের ওপর এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হবে না। এই উদ্যোগ মূলত ছাত্রী, চা-বাগানের কর্মী এবং নিম্ন আয়ের নারীদের দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক স্বস্তি প্রদান করবে।

প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা এবং গতি আনতে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকারি প্রকল্পের জন্য ১২ পাতার ফর্মটি দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে আবেদনকারীদের মাত্র ৪ পাতা পূরণ করতে হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় একবার তথ্যভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত হলে, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধার জন্য বারবার ফর্ম ফিলাপের ঝক্কি পোহাতে হবে না। এটি সরকারি পরিষেবা পাওয়ার পথকে আরও মসৃণ ও দ্রুত করবে।

প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৬ লক্ষ অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টেও দ্রুত টাকা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের বিষয়টিও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকৃত প্রাপক প্রশাসনিক জটিলতায় বঞ্চিত না হন।

নিজের বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন এত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে যাচাই করা সহজসাধ্য ছিল না। সরকারি অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপাত্রে না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানান। সরকারের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই যে তাঁর লক্ষ্য, তা তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে এই ধরনের স্বচ্ছ ও জনমুখী উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।