মহালয়ার আগেই দুর্গাপূজার মণ্ডপে হাজির হবেন না মা দুর্গা! বৃষ্টির কারণে কাজ থমকে, দুশ্চিন্তায় শিল্পী ও পুজো কমিটি

দুর্গাপূজার ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। এখন কুমোরটুলিতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু আকাশের খামখেয়ালি মেজাজ এবং দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে শিল্পীদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। মহালয়ার আগেই প্রতিমা মণ্ডপে পাঠাতে হবে, আর ঠিক তখনই বৃষ্টির জেরে সব কাজ থমকে গেছে।

বৃষ্টিতে থমকে প্রতিমা তৈরির কাজ

কয়েকদিন ধরেই আকাশের মুখ ভার। চলছে দফায় দফায় বৃষ্টি, যা রীতিমতো মুষলধারে নামলে রাস্তাঘাট ভিজে যাচ্ছে। এর থেকে প্রতিমা বাঁচাতে শিল্পীদের কাজ ফেলে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিতে হচ্ছে। এর ফলে রং করা, চোখ আঁকা, সাজানো এবং শাড়ি পরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না।

শিল্পী সুচন্দ্রিমা পাল বলেন, ” টানা কয়েক দিন রোদ ছিল, তাই মাটির কাজ করতে অসুবিধা হয়নি। কিন্তু মহালয়ার আগেই সবথেকে বেশি কাজ, এই সময়ে এমন পরিস্থিতি হলে সমস্যা। এটা বাড়তি ভোগান্তি ছাড়া আর কিছু নয়।”

অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার শিল্পীরা

বৃষ্টির কারণে শুধু কাজই থমকে যাচ্ছে না, শিল্পীদের অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকারও হতে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি হয়ে গেলে তা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে গাড়িতে তুলতে হচ্ছে। অনেক সময় বৃষ্টিতে প্রতিমার কিছু অংশ ভিজে নরম হয়ে যাচ্ছে, যা পরে আবার মেরামত করতে হচ্ছে। শিল্পী সুজিত পাল বলেন, “আমাদের ভোগান্তি অনেক বেড়ে যায়। ঠাকুর নিয়ে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। কিছু অংশে গলে যায়, সেটা মেরামত করতে হয়। পুরো কাজ এখান থেকে করে পাঠানো যায় না, মণ্ডপে গিয়ে বাকি কাজ করতে হয়। তাই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক হোক পরিস্থিতি, এটাই প্রার্থনা।”

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বর্ষা বিদায়ের কোনো নির্দিষ্ট সময় এখনও জানানো হয়নি। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা আগামী বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে। এই কারণে মহালয়ার আগে কতটা কাজ এগোবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন শিল্পীরা। পুজো কমিটিগুলোও মণ্ডপ সজ্জার কাজ থমকে যাওয়ায় রীতিমতো চিন্তিত। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক জেলায় প্রভাব ফেলছে।