উচ্চ-প্রাথমিক নিয়োগে বড় কেলেঙ্কারি! কম নম্বর পেয়েও চাকরি, রিপোর্ট তলব করে তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এবার অভিযোগ, স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) কাট অফ মার্কসের চেয়ে কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও এক প্রার্থীকে ইন্টারভিউতে ডেকেছে এবং প্রাপ্ত নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে চাকরি দিয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের শিক্ষা সচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিযুক্ত শিক্ষককে মামলার অন্তর্ভুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

মামলার মূল অভিযোগ

মামলাকারী রবিউল ইসলাম মণ্ডল অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ২০১৬ সালের উচ্চ-প্রাথমিক পরীক্ষায় ওবিসি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করেছিলেন। কমিশনের প্রকাশিত মেধাতালিকায় দেখা যায়, ইতিহাস বিষয়ের প্রার্থী জাকির হোসেন ইন্টারভিউয়ের আগে পেয়েছেন মোট ৭৪.৬৮ নম্বর, যা কাট অফ মার্কস ৭৫.৭৩৩-এর থেকে কম।

এছাড়াও, জাকির হোসেনের স্নাতক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী তার অ্যাকাডেমিক স্কোর ১৬ হওয়ার কথা থাকলেও, তাকে ১৮ নম্বর দেওয়া হয়েছে। রবিউল ইসলামের অভিযোগ, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে এই নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি যদি যোগ্য হন, তাহলে তারও নম্বর বাড়িয়ে চাকরি দেওয়া হোক।

আদালতের নির্দেশ

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের শিক্ষা সচিবের কাছে জানতে চেয়েছেন, জাকির হোসেনের স্নাতকে ৫০ শতাংশের নিচে নম্বর থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে ১৮ নম্বর দেওয়া হলো। পুজোর ছুটির পর আদালত খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

একইভাবে, গণেশচন্দ্র মজুমদার নামে আরও একজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিক স্কোর দিয়ে একজন প্রার্থীকে ইন্টারভিউতে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চাকরিও করছেন। এই প্রার্থীর নম্বরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যও বিচারপতি শিক্ষা সচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ আপার প্রাইমারির ১,২৪১ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। স্কুল সার্ভিস কমিশন ১৪,০৫২টি শূন্যপদের জন্য মেধাতালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই এই নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশিকা আবারও পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।