মমতা-র ওপর আস্থা হারালেন টিএমসি নেতারা? দলত্যাগের হিড়িকে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক সংকটের জের ধরে সোমবার ফের সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের যে পথ বেছে নিয়েছেন, তা নিয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র এনভি সুভাষ হায়দরাবাদে এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরের গভীর সংকট ও নেতৃত্বের ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের সদস্যদের গণতান্ত্রিক পরিসর দিতে তৃণমূল নেতৃত্ব পুরোপুরি ব্যর্থ।
সুভাষের কথায়, “তৃণমূলের নেতা এবং তাঁদের নির্বাচকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। রাজ্যের উন্নয়ন থেকে মানুষ বঞ্চিত, আর সেই কারণেই তারা এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তারা আলাদাভাবে বসার আবেদনও জানিয়েছেন।” সূত্রের খবর, আইনি জট এড়াতে ও সংসদীয় ব্লক তৈরির উদ্দেশ্যে বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
এরই মধ্যে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মন্তব্যেরও কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। ওয়েইসি দলত্যাগীদের ‘মাথা নত করা’র অভিযোগ তুললেও, বিজেপি একে সম্পূর্ণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে।
তৃণমূলের এই রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়েছে কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা। কালীঘাট এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের অদূরেই তৃণমূলের এই মুখপাত্রকে নিশানা করেন এক যুবক। এই ঘটনায় রাতেই কালীঘাট থানায় কুণাল ঘোষ লিখিত এফআইআর দায়ের করেছেন। কুণাল সরাসরি চন্দন নামে এক ব্যক্তিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁকে বিজেপির ‘গুন্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “যে জানোয়ারটা ডিম ছুড়েছিল, তার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছি। ওই লোকগুলো অভব্য আচরণ করার উদ্দেশ্যেই জড়ো হয়েছিল। বিকেলের ওই ‘বাঁদর’টাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” অভিযোগে কুণাল আরও দাবি করেছেন, পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে, যা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আজ যারা ডিম ছুড়েছে, তারা বিজেপির উসকানিতে আগামী দিনে বোমা ছুড়তেও দ্বিধা করবে না। এটি কেবল একটি ডিম ছোড়ার ঘটনা নয়, বরং তাঁকে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন কুণাল। একদিকে দলের সাংসদদের বিদ্রোহ, অন্যদিকে খোদ দলীয় নেতার ওপর প্রকাশ্য হামলা—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।