মমতা-যুগের অবসান? অভিষেককে সাসপেন্ড করে নতুন তৃণমূলের জয়যাত্রা ঘোষণা ঋতব্রত শিবিরের!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের দিনেই বঙ্গ রাজনীতিতে ঘটল এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা। নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করে এবং তাঁর ছবি পর্যন্ত সরিয়ে দিয়ে নতুন পথে হাঁটার ঘোষণা করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। আজ তাঁদের এই বৈঠক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ করা হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান আপডেটসমূহ:
নতুন কমিটি ও নেতৃত্ব: বিদ্রোহী শিবিরের এই নতুন তৃণমূলে সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে। জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হিসেবে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও রথীন ঘোষসহ ১০ জন প্রভাবশালী নেতাকে রাখা হয়েছে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। সূত্রের খবর, তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করার রেজোলিউশনে বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত শীর্ষ নেতা সই করেছেন।
মমতাকে বাদে বিকল্প আদর্শ: হোটেলের এই সভাকক্ষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি রাখা হয়নি। পরিবর্তে মঞ্চে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর অম্বেদকরের ছবি। এটি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংবিধানিক যুক্তি: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে জোরালো দাবি তোলেন যে, তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী ২০২২ সালের পর দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই বর্তমান কমিটি অবৈধ এবং এই নতুন কমিটিই দলের একমাত্র বৈধ সংবিধানিক কাঠামো।
রাজনৈতিক অস্থিরতার তুঙ্গে: কালীঘাটের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের অনুগত অংশ এই ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকতা” হিসেবে দেখলেও, বিদ্রোহী নেতারা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। আজ লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ড এবং বাজেট নিয়ে যখন রাজ্য সরকার ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই রাজনৈতিক অভ্যুত্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।