জঙ্গলের গোপন রহস্য ফাঁস! ছত্তিশগড়ে দেখা মিলল বিরল ‘উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’র

ছত্তিশগড়ের বন্যপ্রাণী মানচিত্রে আজ এক উজ্জ্বল দিন। রাজ্যের উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভে দেখা মিলেছে অত্যন্ত বিরল প্রজাতির ‘ইন্ডিয়ান ফ্লাইং স্কুইরেল’ বা উড়ন্ত কাঠবিড়ালির। বন দফতরের এই সাফল্য রাজ্যের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

উড়ন্ত কাঠবিড়ালি কেন বিরল? নামে ‘উড়ন্ত’ হলেও এরা আসলে পাখির মতো ডানা মেলে ওড়ে না। এদের শরীরের গঠন অত্যন্ত অভিনব। সামনের এবং পেছনের পায়ের মাঝে থাকা একটি বিশেষ চামড়ার পর্দার সাহায্যে এরা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফ দেওয়ার সময় হাওয়ায় ভেসে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে। এই প্রাণীটি প্রধানত নিশাচর, অর্থাৎ দিনের বেলা এরা গাছের গভীরে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের অন্ধকারে খাবারের খোঁজে সক্রিয় হয়।

জঙ্গলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সূচক: পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের বিরল কাঠবিড়ালি কেবলমাত্র খুব ঘন এবং প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত জঙ্গলেই বসবাস করে। উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভে এদের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, এই বনাঞ্চলের পরিবেশ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং এখানে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য চমৎকারভাবে বজায় রয়েছে।

সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জয়: মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সায় এবং বনমন্ত্রী কেদার কাশ্যপের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যে বিশেষ পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, তার ফলেই এই রিজার্ভটি আজ বিপন্ন প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ডিরেক্টর বরুণ জৈন জানিয়েছেন, “বনকর্মীদের এই সাফল্য আমাদের সংরক্ষণের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

ইকোট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনা: এই বিরল প্রাণীর উপস্থিতি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ছত্তিশগড়ের অরণ্যকে নতুন পরিচিতি দেবে। একইসঙ্গে ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি গবেষণার নতুন দ্বার খুলে দেবে। বন দফতরের আশা, এই ঘটনা রাজ্যে ইকোট্যুরিজমের প্রচারকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণী বাঁচানোর সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।