“মমতা জিতলে হারবে বাংলার মানুষ!” ভোটের ময়দান থেকে দূরে বসে বিস্ফোরক গৌতম দেব

রাজ্য রাজনীতিতে একসময় যাঁর গর্জন প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিত, সেই সিপিএমের দাপুটে নেতা গৌতম দেব এখন ভোটের মূল স্রোত থেকে অনেকটাই দূরে। শারীরিক অসুস্থতা আর সময়ের ফেরে এখন আর জনসভায় তপ্ত ভাষণ দিতে দেখা যায় না তাঁকে। তবে ঘরবন্দি থাকলেও শাণিত রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক মস্তিস্ক। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে ফের একবার নিজের চেনা মেজাজে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই প্রবীণ বাম নেতা।
কমিশন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে:
গৌতম দেবের মতে, এবারের ভোটে নির্বাচন কমিশন যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “আজ ইলেকশন কমিশনই মূল অ্যাজেন্ডা। প্রতিটি দল কমিশনকে নিয়ে আলাদা আলাদা অবস্থান নিচ্ছে।” নিজের দলের বিপর্যয় নিয়েও অকপট তিনি। স্বীকার করে নিয়েছেন যে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের শক্তি কমছে এবং দলের অন্দরে তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনা চলছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, “পার্টি তৈরি হয়েছিল বিপ্লবের জন্য, শুধু ভোটের জন্য নয়। বুর্জোয়া দলগুলোর কাছে ভোটই সব, আমাদের কাছে তা লড়াইয়ের একটি মাধ্যম মাত্র।”
২০২৬ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি:
ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিতেই গৌতম দেব বলেন, “এবার যদি পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেতেন, তবে সেটা খবর হবে না। খবর হবে এই যে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ হেরে গেছে। মানুষ পারল না।” তাঁর মতে, শাসকদলের জয় মানেই হবে সাধারণ মানুষের পরাজয়। ঘরের দেওয়ালে টাঙানো পুরনো দিনের স্মারক আর ছবির ভিড়ে আজও তিনি বামপন্থার পুনরুত্থানের স্বপ্ন দেখেন, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি যে অত্যন্ত কঠিন—তা মেনে নিতে দ্বিধা করেননি একসময়ের এই দাপুটে মন্ত্রী।