নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “ইস্তফা দেব না” মন্তব্য ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। জনমতের রায়ে পরাজিত হওয়ার পরেও যদি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকতে চান, তবে কি রাজ্যে গভীর সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে? এই জটিল আইনি প্রশ্নটি নিয়েই এবার মুখ খুললেন কলকাতা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে বা সেই পদে থাকতে গেলে বিধানসভার সদস্য হওয়া বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন থাকা বাধ্যতামূলক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন, তবে রাজ্যপাল এবং বিধানসভার ভূমিকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যা: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির মতে, ভারতের সংবিধানের ১৬৪ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধানসভার সদস্য না হয়েও ছয় মাস পর্যন্ত মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন। কিন্তু যদি তিনি সরাসরি নির্বাচনে পরাজিত হন, তবে নৈতিকভাবে এবং সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাঁর পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তিনি আরও জানান, “যদি মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দেন এবং রাজ্যপাল মনে করেন যে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তবে রাজ্যপালের হাতে কিছু বিশেষ ক্ষমতা থাকে। তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন কিংবা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে পারেন।”
সাংবিধানিক সঙ্কট কি অনিবার্য? আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে তবে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো চরম পদক্ষেপের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও ভারতীয় রাজনীতিতে এমন নজির বিরল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাকে এক চরম আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, রাজভবন এই পরিস্থিতিতে কী ভূমিকা নেয়। রাজ্যপাল কি মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেবেন, নাকি আইনি পথেই এই জট কাটানোর চেষ্টা হবে? সেই দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।





