২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর যেখানে রাজনৈতিক সৌজন্য মেনে ইস্তফা দেওয়ার কথা, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কাছে হারের পরেও তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন আইনি ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল।
মঙ্গলবার গণনার চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই নবান্ন এবং রাজভবন চত্বরে নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়কে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তাঁর এই আচরণ নিয়ে ইতিমধেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল। তিনবার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের এই পদক্ষেপ কি আদৌ গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে মানানসই? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কী বললেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ এবং ইস্তফা না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো ফলাফল ঘোষণা করা এবং জয়ীদের সংশয়পত্র প্রদান করা। ফলাফল ঘোষণার পর ইস্তফা দেওয়া বা নতুন সরকার গঠন করা একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা রাজভবন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক্তিয়ারভুক্ত। কমিশন তার দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করেছে।”
আগরওয়াল আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি বুথের এবং প্রতিটি আসনের গণনা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই হয়েছে। ফলে গণনায় কারচুপির কোনো অবকাশ নেই।
সংকটে বাংলার রাজনীতি: সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল সরকার গড়ার দাবি জানায়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দেওয়ায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না বলেই এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ করছেন।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, মানুষের রায়কে অপমান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার গতিরোধ করতে চাইছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি মেলেনি।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে কখনো পরাজিত কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে গদিতে অনড় থাকতে দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, রাজভবন এই অচলাবস্থা কাটাতে কোনো বিশেষ হস্তক্ষেপ করে কি না, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পদত্যাগ করেন।





