মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবার বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড়সড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার তথা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের রেষারেষি এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার আচমকাই দেখা যায়, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে দুবাই উপকূলে জমা হয়েছে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ। ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক জলপথের এই বিকল্প রুট বেছে নেওয়াতেই তৈরি হয়েছে বিশাল জট।
ইরানের নতুন ‘সামুদ্রিক সীমান্ত’ ও আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) রেডিও বার্তার মাধ্যমে একতরফাভাবে নতুন ‘সুরক্ষিত সামুদ্রিক সীমান্ত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। এই নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, ইরান তার নিয়ন্ত্রণ বলয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উম আল-কুয়েন পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চাইছে। অভিযোগ উঠেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দরেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই আতঙ্কেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের সাহস দেখাচ্ছে না।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জাহাজ চলাচলের পথ খোলা রাখতে আসরে নেমেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস (CBS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার দুটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইতিমধেই পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। যদিও পেন্টাগন দাবি করেছে তারা পথ সচল রাখতে বদ্ধপরিকর, তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে সংঘাত আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আহত ৩ ভারতীয়, সরব প্রধানমন্ত্রী মোদী
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে একটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন জন ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “সাধারণ মানুষ ও পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ভারত এই সংকটে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই শত্রুতামূলক কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত
সংঘাতের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, যা বর্তমানে প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। অয়েল ব্রোকারেজ লিমিটেডের গ্লোবাল হেড অনুপ সিংয়ের মতে, দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের পকেটে।
পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে এখন নজর গোটা বিশ্বের। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা এই জলপথ কি স্বাভাবিক হবে, নাকি বিশ্ব দেখবে আরও বড় কোনো যুদ্ধ— উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনেই।





