পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জোড়াফুল উপড়ে ফেলে প্রথমবার ‘পদ্মাসনে’ বসল পশ্চিমবঙ্গ। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে শেষ পর্যন্ত লেখা হল এক নতুন ইতিহাস। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকাল, নির্যাতন আর দুর্নীতির অভিযোগের অধ্যায় সরিয়ে বাংলার মানুষ বেছে নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিকে। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্রথম রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছেন বিজেপির কোনো মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ হতে কয়েক দশক সময় লেগে গেল। আজ ৪ মে, বাংলার পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি বলতে পারি, মানুষ সেই সুযোগ বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছেন। ওঁর আত্মা আজ শান্তি পেল।” মোদি আরও যোগ করেন, ১৯৫১ সালে জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার সময় শ্যামাপ্রসাদজি বলেছিলেন দেশের জন্য বাঁচতে এবং মরতে হবে। আজ সেই মন্ত্রই সফল হল।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই জয়কে মানুষের জয় হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “এই লড়াই বিজেপি নয়, লড়েছেন বাংলার সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের রাশ ছিল তাঁদেরই হাতে। আমরা জানতাম, শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে তাঁর ভাবাদর্শের সরকার আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা ছিল।”
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৫১ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৫২-র নির্বাচনে তিনি নিজে কলকাতা দক্ষিণ-পূর্ব কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। সেই বছর বিধানসভাতেও ৯টি আসন পেয়েছিল জনসঙ্ঘ। কিন্তু তারপর দীর্ঘ সময় বাংলার রাজনীতিতে কোণঠাসা ছিল গেরুয়া শিবির। ১৯৮০ সালে জনসঙ্ঘের উত্তরসূরী হিসেবে বিজেপির জন্মের পর শুরু হয় দীর্ঘ লড়াই। অবশেষে ২০২৬ সালে, জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর এবং শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর ৭৩ বছর পর বাংলার মসনদ দখল করল বিজেপি। ৭৫ বছরের দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলার মাটিতে উড়ল গেরুয়া নিশান।





