২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। আর এই গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেই এক অনন্য রূপকথার জন্ম দিলেন আউসগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি। জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াই জয় করে তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য। কয়েক দিন আগেও যাঁকে অন্যের বাড়িতে বাসন মাজা বা পরিচারিকার কাজ করতে দেখা যেত, আজ তাঁর গলায় জয়ের মালা। আউসগ্রামের সাধারণ মানুষ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন তাঁদের এই ‘ঘরের মেয়ে’কে।
রেকর্ড ব্যবধানে জয়
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলিতা মাজি মোট ১,০৭,৬৯২ ভোট পেয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের শ্যামা প্রসন্ন লোহারকে ১২,৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আউসগ্রামের মাটিতে পদ্ম ফুটিয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হলেও ভেঙে পড়েননি কলিতা। বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর লড়াইয়ের ওপর ভরসা রেখে পুনরায় মনোনয়ন দিয়েছিল, আর এবার জনতা জনার্দন তাঁর সেই পরিশ্রমের যোগ্য সম্মান দিল।
সাধারণ জীবন থেকে রাজনীতির আঙিনায়
গুসকরা পুরসভার বাসিন্দা কলিতা মাজির জীবন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই ছিল। অভাবের সংসারে হাল ধরতে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন তিনি। তাঁর এই অতি সাধারণ জীবনযাপন এবং স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে থাকাটাই ভোটের ময়দানে তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ায়। প্রচারের সময় যখন তিনি পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন, তখন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে। তাঁর এই জয় প্রমাণ করে দিল যে, গণতন্ত্রে ইচ্ছাশক্তি ও সততা থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থান
কলিতা মাজির এই জয় আসলে বিজেপির এক বৃহত্তর ও ঐতিহাসিক সাফল্যের খণ্ডচিত্র মাত্র। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০৬টি আসন জিতে একক সংখ্যাগুরু দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে এখন পরিবর্তনের মহোৎসব। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি—উভয় জায়গাতেই একই দলের শাসন কায়েম হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে”, যা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নিরন্তর গণসংযোগেরই ফল। ২০১১ সালে রাজ্যে কার্যত অস্তিত্বহীন থাকা একটি দল আজ বাংলার ভাগ্যবিধাতা, আর কলিতা মাজির মতো সাধারণ মানুষই সেই সাফল্যের কারিগর।





