মমতার আঁকা নয়! তৃণমূলের লোগো তৈরির নেপথ্যের আসল কারিগর কে? মুখ খুললেন শিল্পী

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি ও চুরির অভিযোগ ঘিরে একাধিকবার তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু এবার যে অভিযোগ সামনে এল, তা রীতিমতো তৃণমূলের দলীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছে। তৃণমূলের বিখ্যাত ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি নাকি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা নয়! এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করেছেন চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। এই দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শিল্পীর দাবি: অজিত পাঁজার অনুরোধে এঁকেছিলেন প্রতীক
চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর অভিযোগ, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ঠিক আগে তৎকালীন নেতা প্রয়াত অজিত পাঁজার অনুরোধেই তিনি ওই জোড়াফুল প্রতীকটি ডিজাইন করেছিলেন। সোমনাথবাবু বলেন, “অজিত পাঁজা আমাকে ডেকে লোগোর স্কেচ করতে বলেছিলেন। আমি এঁকে দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ১২টার সময় টিভিতে দেখলে বুঝতে পারবে এটি কী কাজে লাগল। কিন্তু এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এটি তাঁর নিজের হাতে আঁকা। আমার আঁকা ছবিকে অন্য কেউ নিজের কৃতিত্ব বলে দাবি করবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল।”

এতদিন কেন চুপ ছিলেন সোমনাথ চৌধুরী?
এতদিন এই সত্য গোপন থাকার কারণ হিসেবে সোমনাথবাবু জানিয়েছেন, তৃণমূলের ভয়েই তিনি মুখ খুলতে পারেননি। শিল্পী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করেছিলেন, বীরভূমে মামাবাড়ি যাওয়ার পথে কাশফুল দেখে তিনি এটি ভেবেছেন। কিন্তু আমি জানতাম তিনি ছবি আঁকেন না। তখন মুখ খুললে আমার ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হতো। আমি প্রতীক্ষায় ছিলাম, কবে তৃণমূলের ক্ষমতা যাবে এবং তাদের দাঁত-নখ ভাঙবে। আজ যখন সেই সুযোগ এসেছে, তাই আমি সত্য প্রকাশ করছি।”

কী বলেছিলেন দলের নেতারা?
সোমনাথবাবুর আরও বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও তৎকালীন মন্ত্রীরা জানতেন যে প্রতীকটি তাঁর আঁকা। তিনি জানান, সৌগত রায় এবং অতীন ঘোষের মতো নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে বলেছেন যে, এটি তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতির চাপে কেউই মুখ খুলতে সাহস পাননি। তিনি দাবি করেন, প্রয়াত অজিত পাঁজা একসময় তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন যে, না জানিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোগোর কৃতিত্ব নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি এর জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

তৃণমূলের অন্দরে এখন পরাজয়ের আবহে এই নতুন বিতর্ক যোগ করায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির ও সাধারণ মানুষ। সোমনাথ চৌধুরীর এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল আবেগের জায়গাটিতেই যে বড় মাপের জালিয়াতি ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এই অভিযোগের কোনো জবাব দেবেন? নাকি নীরবতার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নেবেন? তৃণমূলের প্রতীকের স্বত্ব নিয়ে এই নতুন বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy