বাংলার রাজনীতিতে যেন এক টানটান উত্তেজনার সাসপেন্স থ্রিলার চলছে। একদিকে যখন লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে বিরোধী দলনেতার আচমকা উপস্থিতি ঘিরে এখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে।
দিল্লির অন্দরে কী হচ্ছে? দিল্লিতে সংসদীয় অধিবেশন চলাকালীনই শতাব্দী রায়ের সরকারি বাসভবনে শুভেন্দু অধিকারীর এই সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে এই বৈঠকের নেপথ্যে ঠিক কী রসায়ন কাজ করছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সৌজন্য না কি নতুন কোনো সমীকরণ? যদিও দুই পক্ষের কেউই এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক তকমা দিতে নারাজ, তবুও অভিজ্ঞ মহলের মতে, রাজনীতির ময়দানে এমন কোনো বৈঠকই ‘নিছক’ হয় না। বিশেষ করে যেখানে তৃণমূলের অন্দরে শতাব্দী রায়ের মতো নেত্রীর ভূমিকা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা গুঞ্জন শোনা যায়।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার জল্পনা নতুন কিছু নয়। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ কি শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে?
শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক? বিজেপি শিবিরে থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের পদক্ষেপ বরাবরই শাসকদলের অন্দরে ফাটল ধরানোর কৌশল হিসেবে পরিচিত। দিল্লির বুকে এই বৈঠক সেই পুরোনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
এই সাক্ষাৎ কি শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি বাংলার রাজনীতির সামনের দিনগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস? উত্তর সময়ের গর্ভে। তবে, এই ঘটনা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





