“মমতাই থাকুন, মমতাই থাকবেন”-TMC-র পালেই হাওয়া বুঝছেন মোদীর নৌকার মাঝি

গঙ্গার শান্ত জলে প্রধানমন্ত্রীর নৌকাবিহার—গত কয়েকদিন ধরে এই ছবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপারহিট। তবে যাঁর নৌকায় চেপে নরেন্দ্র মোদী গঙ্গার রূপ উপভোগ করলেন, সেই মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের মনের কথাটি শুনলে চমকে উঠবেন অনেকেই। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নৌকায় চড়িয়ে আপ্লুত হলেও, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই প্রথম পছন্দ হুগলির এই সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের।

স্বপ্নের মতো সেই ৪০ মিনিট

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ আকস্মিকভাবেই ডাক পড়ে গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের। সাতটি নৌকার আয়োজন করা হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। গৌরাঙ্গর কথায়, “প্রথমে বুঝতে পারিনি। তারপর দেখলাম স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘাটে আসছেন। ভাবতেই পারিনি উনি সাধারণ মানুষের মতো আমার নৌকায় উঠবেন।” প্রায় ৪০ মিনিট গঙ্গাবক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়েছেন গৌরাঙ্গ। মোদী তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন, যা এখন ভাইরাল।

রোজগার হল হাজার টাকা, কিন্তু ভোট?

বলাগড়ের বাসিন্দা গৌরাঙ্গর দৈনিক রোজগার মেরেকেটে ২০০-৩০০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে এদিন তাঁর পকেটে এসেছে এক হাজার টাকা। যদিও দিনভর মিডিয়া ইন্টারভিউয়ের চাপে নৌকা চালানো হয়নি তাঁর। কিন্তু রাজনীতির হিসাবনিকাশ না বুঝলেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। গৌরাঙ্গ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে রাজ্য চালাচ্ছেন, উনিই থাকুন। উনিই থাকবেন।”

কেন মমতাতেই ভরসা গৌরাঙ্গর?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও গৌরাঙ্গর পুরনো স্মৃতি রয়েছে। তিনি জানান:

  • মুখ্যমন্ত্রী অনেকবার বলাগড়ে এসেছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন।

  • মাঝিদের সঙ্গে দেখা করে নমস্কার জানানো বা কথা বলার সহজ ভঙ্গি ছুঁয়ে গিয়েছে তাঁকে।

  • এলাকার ভোটের হাওয়াও এখন তৃণমূলের দিকে বলেই মনে করছেন তিনি।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী আমার নৌকায় চড়বেন এটা স্বপ্নেও ভাবিনি, ওঁর ব্যবহারে আমি অভিভূত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা দিদিই আমাদের কাছে বেশি আপন।” আগামী ২৯ তারিখ বলাগড়ে ভোট। নৌকার হাল যাঁর হাতেই থাকুক, বাংলার হাল কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে গৌরাঙ্গর উত্তর কিন্তু তৈরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy