ভোটে নজিরবিহীন কর্মী সঙ্কট! পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক, জেলা বদল কয়েক হাজার কর্মীর

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মুখে বড়সড় প্রশাসনিক সংকটের মুখে নির্বাচন কমিশন। ঘাটতি মেটাতে এক অভিনব কৌশল নিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীরা ডিউটি করেছিলেন, তাঁদেরই পুনরায় দ্বিতীয় দফার জন্য ভিন্ন জেলাগুলিতে মোতায়েন করা হবে। শুক্রবার এই মর্মে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

কেন এই জরুরি পদক্ষেপ?
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) রিপোর্ট দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ ভোটকর্মী নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে অভিজ্ঞ প্রিসাইডিং অফিসার (PR), P1, P2 এবং P3 স্তরের কর্মীদের দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোন জেলা থেকে কোথায় যাচ্ছেন কর্মীরা?
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মী সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। তাই উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলা ও মালদা-মুর্শিদাবাদ থেকে হাজার হাজার কর্মীকে এই জেলায় আনা হচ্ছে। একইভাবে:

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এখানে কর্মী আসছেন বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে।

কলকাতা দক্ষিণ: পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ১১০৯ জন কর্মী এখানে মোতায়েন হচ্ছেন।

হাওড়া ও হুগলি: পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া থেকে কয়েকশো কর্মী এই দুই জেলায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব মেদিনীপুর ও বীরভূম থেকে জোগান দেওয়া হবে বাড়তি কর্মী।

EMMS সফটওয়্যারে কড়া নজরদারি:
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই বিশাল সংখ্যক কর্মীর নিয়োগপত্র এবং তথ্য আদান-প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি হতে হবে ‘EMMS’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। জেলাশাসকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এই বিশাল লজিস্টিক অপারেশন কমিশনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy