বার্ধক্যজনিত আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম হাতিয়ার হলো ‘অটল পেনশন যোজনা’ (APY)। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পের গ্রাহক সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
অটল পেনশন যোজনা কী?
এটি পেনশন তহবিল নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (PFRDA) দ্বারা পরিচালিত একটি নিশ্চিত পেনশন প্রকল্প। এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর থেকে আজীবন প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া সম্ভব।
কত বিনিয়োগে কত লাভ? (৫,০০০ টাকা পেনশনের হিসাব):
বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে গ্রাহকের বয়সের ওপর। যত কম বয়সে শুরু করবেন, কিস্তির বোঝা তত কম হবে।
১৮ বছর বয়স: প্রতি মাসে মাত্র ২১০ টাকা জমা করলে ৪২ বছর পর মিলবে মাসিক ৫,০০০ টাকা পেনশন। নমিনি পাবেন ৮.৫ লক্ষ টাকা।
৩০ বছর বয়স: প্রতি মাসে ৫৭৭ টাকা জমা করতে হবে।
৪০ বছর বয়স: মাসিক কিস্তির পরিমাণ দাঁড়াবে ১,৪৫৪ টাকা।
পরিবারের সুরক্ষা ও সুবিধা:
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হলো গ্রাহকের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বা স্বামী সমান হারে পেনশন পাবেন। যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই মৃত্যু হয়, তবে মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি জমানো সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। বছরে একবার (এপ্রিল মাসে) পেনশনের পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোও যায়।
আবেদন করবেন কীভাবে?
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পে নাম লেখাতে পারেন। আবেদনের জন্য একটি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর জমা দিলে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য অটল পেনশন যোজনা বর্তমানে মধ্যবিত্তের সেরা পছন্দ।





