মন্ত্রিসভায় বড় চমক শুভেন্দুর! সোমবারই কি শপথ নতুন মন্ত্রীদের? জোর চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্ন ও প্রশাসনিক মহলে। সূত্র মারফত খবর, আগামী সপ্তাহে, বিশেষত সোমবারই নিজের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ভোটে পরাস্ত করে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার জনমুখী ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন বাজেট অধিবেশনের আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ এবং ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।

জানা গিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, মহিলাদের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিতে মন্ত্রিসভায় তাঁদের উপস্থিতি বাড়ানো হবে বলে খবর। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল ও নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা প্রবল। শোনা যাচ্ছে, কলকাতার এক স্বনামধন্য প্রবীণ চিকিৎসক, যিনি সদ্যই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর কাঁধে স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, পিএইচডি (PhD) ডিগ্রিধারী একজন নবনির্বাচিত বিধায়কের ওপর শিক্ষা দপ্তরের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই রাখতে চান বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, গত বুধবার লোকভবনে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট অধিবেশনের প্রস্তুতি এবং পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। গত ৯ মে ব্রিগেডে শপথ নেওয়ার পর থেকে এই সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও পেশাজীবী বিধায়কদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু নিয়েও সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সাম্প্রতিককালে পুরুষ ‘লক্ষ্মী’ প্রকল্প ও স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে চন্দ্রকোনা সহ নানা এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি তদন্ত নিয়েও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। এসবের মাঝেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ শুভেন্দু সরকারের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। মন্ত্রিসভায় নতুনদের জায়গা করে দিয়ে প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল প্রতিটি জেলায় পৌঁছে দেওয়াই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য। সোমবার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।