মদ্যপানের আসরেই তুমুল কাণ্ড! উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় রহস্যজনক খুন, আটক ১, কী কারণে ঘটল এই ঘটনা?

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা এলাকায় নিজের ঘর থেকে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে ৪৭ বছর বয়সী ওই দিনমজুরকে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম বাবলু কর্মকার। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর বৃদ্ধা মা পাশের ঘরে থাকেন।
রাতভর মদ্যপান, সকালে মিলল রক্তাক্ত দেহ: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবলু কর্মকার প্রতিদিন মদ্যপান করতেন এবং তাঁর ঘরে প্রায়ই বন্ধুবান্ধবদের আনাগোনা ছিল। শুক্রবার রাতেও তাঁর বাড়িতে এক বন্ধু এসেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। দু’জন একসঙ্গে ঘরে বসে মদ্যপান করছিলেন।
শনিবার সকালে বাবলুর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁরা দেখেন, বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাবলুর নিথর দেহ। বিছানা ও মশারিতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ এবং তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বাবলুর মা তরু কর্মকারের স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলে একা থাকত। বিভিন্ন এলাকার বন্ধুরা আসত। আমি কাউকে চিনি না। কী কারণে ছেলেকে খুন করেছে তা জানি না।”
খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, আটক ১: খবর পেয়ে দেগঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘর থেকে খুনের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মদ্যপানের আসরে কোনও কারণে বাবলুর সঙ্গে তাঁর বন্ধুর ঝগড়া হয়, আর সেই ঝগড়াই চরম আকার নেয়।
পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পারিবারিক শত্রুতা নাকি মদ্যপানের আসরে হওয়া বচসা— ঠিক কী কারণে বাবলু কর্মকারকে খুন করা হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।