‘মদের ঠেকে তো এমন গণ্ডগোল লেগেই থাকে!’ কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়েই সোজা গুলি চালালো দুষ্কৃতীরা?

হাওড়ার বুকে ফের এক ভয়ংকর অপরাধের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গভীর রাতে মদের আসরকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে গুলিবিদ্ধ হলেন এক যুবক। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার লিলুয়ার ভার্মা কলোনি এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই কলোনির ভেতরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়মিত বসা মদের আসর বসেছিল। সেই আসর চলাকালীনই হঠাৎ করে কোনো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মদ্যপদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ সেই চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘরের বাইরে এলেও তাঁরা বিষয়টি প্রথমে বিশেষ আমল দেননি। কারণ, ওই এলাকার মদের ঠেকে এই ধরনের টুকটাক অশান্তি বা হইচই প্রায়ই লেগে থাকে বলে তারা অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু সামান্য সেই বাক্যবিনিময় যে মুহূর্তের মধ্যে এত বড় এক মর্মান্তিক রূপ নেবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। বিবাদ চরমে উঠলে অভিযুক্তরা আচমকাই রিভলভার বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুলির আকস্মিক আঘাতে রক্তে ভেসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক স্থানীয় যুবক, যিনি এলাকায় ‘মালিঙ্গা’ নামেই সমধিক পরিচিত। গুলির সেই বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের টনক নড়ে এবং তাঁরা দ্রুত ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল ছেড়ে অন্ধকার চম্পট দেয়। ঘটনার পরই রক্তস্নাত অবস্থায় ওই যুবককে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং শরীরে ঠিক কোথায় কোথায় গুলি লেগেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন।

এই ঘটনার পরই গোটা ভার্মা কলোনি জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে পুরনো কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে, অথবা মদের আসরের তাৎক্ষণিক কোনো বচসাই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ। মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাদের খোঁজে সম্ভাব্য সবকটি জায়গায় পুলিশি তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার জন্য পুলিশি নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।