মদন মিত্রের বাড়ি কি তবে ‘নিরাপদ আশ্রয়’? সন্দীপনের বাড়িতে বিধায়কের আচমকা উপস্থিতি ঘিরে তীব্র জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন একের পর এক শিবির বদল ও বিদ্রোহের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মদন মিত্রের গতিবিধি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক রহস্য। খবর অনুযায়ী, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র গত রাতে কলকাতার তারাতলায় স্বর্ণকমল সাহা এবং সন্দীপন সাহার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও সেই সময় তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না, তবুও এই সাক্ষাতের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যখন মদন মিত্র এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ইডি-র নজরদারি তুঙ্গে, তখন এই সাক্ষাৎকে ঘিরে নানা জল্পনা ডালপালা মেলছে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলে কে ভালো বা কে খারাপ তা নিয়ে তাঁদের কোনো মাথাব্যথা নেই। দিলীপ ঘোষের কথায়, “যারা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে সমন যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সে কোন দলের তা দেখা হবে না। মদন মিত্র সন্দীপনের বাড়িতে গিয়ে কী করবেন? তার চেয়ে ভালো ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করুন। সন্দীপন বা অন্য কেউ তাঁকে ইডি-র হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।”
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি এখন মরিয়া। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে ইতিমধ্যেই সুজিত বসু ও ফিরহাদ হাকিমের নাম উঠে এসেছে, যা শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মামলার তদন্তে মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় আগেই হানা দিয়েছে ইডি। কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় প্রায় ১২৫ জন বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে মদন মিত্রের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পাওয়ার দাবি করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই সূত্র ধরেই এবার মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ ও শুভরূপ মিত্রকে আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, তাঁদের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের যাবতীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৩ জুন মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বর ও জোকার ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন ঠিকানায় দীর্ঘ ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় মদন মিত্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের তলব করায়, কামারহাটির এই প্রভাবশালী বিধায়ক কি আরও বড় কোনো আইনি বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডি-র এই কড়া পদক্ষেপে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা আরও বাড়বে। আপাতত ২২ ও ২৩ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।