‘মতুয়া-হিন্দুদের অপমান করেছেন!’ কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রকে কড়া আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর

মতুয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে তার নিজের কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপির আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি এই আক্রমণ করেন।
শুভেন্দুর কড়া বার্তা
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানকার সাংসদের কত বড় সাহস, বারবার হিন্দু সংস্কৃতি, বৈষ্ণব, নমঃশূদ্র, মতুয়া এবং তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিকে অপমান করেন। আমাদের এই সনাতন সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়েরা এই বাংলা আমাদের দিয়ে গিয়েছেন। এই বাংলা আমরা বাংলাদেশি মুসলমান, রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেব না।”
তিনি আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন এবং বলেন, “করিমপুর হাতে রয়েছে, তেহট্ট যায় যায় করছে, চাপড়া, কালীগঞ্জ, দেবগ্রামের কী অবস্থা, শিবরাত্রির সলতে মতো টিম টিম করে জ্বলছে কৃষ্ণনগরটা। ধুবুলিয়া অবধি এসে গিয়েছে, আর ১৭ কিলোমিটার বাকি রয়েছে।”
বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের একটি সভায় মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল। আর ভোটের সময় সনাতনী। এটা কী অঙ্ক ভাই?” তিনি রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তফসিলি জাতি, জনজাতির মহিলারা এই প্রকল্পে বেশি টাকা পেলেও মতুয়া প্রধান বুথগুলোতে অন্য দলকে ভোট দেওয়া হয়। মহুয়া তার মন্তব্যে অটল থেকে বলেন, “আমার কথা নিয়ে টিভিতে দেখানো হয়, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আমার কিছু যায় আসে না।”
মহুয়ার এই মন্তব্যের পর বিজেপি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে এবং সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ জানান। শুক্রবার মহুয়া নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, “মতুয়া নিয়ে আমি কিছু ভুল বলিনি। বিজেপি অপব্যাখ্যা করছে। বনগাঁ আমরা জিতিনি, কৃষ্ণনগর টাউন আমরা জিতিনি। কিন্তু তাই বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নের কাজ ওখানে থামাননি। বিজেপি বাংলায় জেতেনি, তাই টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সেকথাই বলেছি।”