যুদ্ধ কি এবার ঘরের দোরগোড়ায়? চাপে পুতিন, নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখে ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে রাশিয়ার অন্দরমহলে। যুদ্ধের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলা এখন কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো প্রধান শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে। এই হামলাগুলোর ফলে জ্বালানি সংকট, ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
পুতিনের জনপ্রিয়তায় বড় ধস দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’-র জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। বর্তমানে দলটির জনসমর্থন মাত্র ৩০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, ২০০৭ সালের পর এই প্রথম দলটি নিজেদের ‘পুতিনের দল’ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেছে। উদ্দেশ্য একটাই—পুতিনের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে দলের ভরাডুবি আটকানো। তবে ক্রেমলিন-সমর্থিত জরিপ সংস্থা এফওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুতিনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার হার কমে ৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন।
শান্তি আলোচনায় অনড় পুতিন ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার সীমিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন। তাঁর মতে, যেকোনো ধরণের সমঝোতা রাশিয়াকে দুর্বল হিসেবে চিত্রিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। তাই যুদ্ধের খরচ এবং জনরোষ উপেক্ষা করেই তিনি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
জনরোষের বারুদ কি বিস্ফোরক? রাশিয়ার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এখন বিপর্যস্ত। একদিকে জ্বালানি ঘাটতি, অন্যদিকে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দেশটিতে ভিন্নমতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন অসম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং মানুষের দুর্দশা এভাবে বাড়তে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ক্রেমলিনের জন্য জনরোষ সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ১৯ বছর পর নির্বাচনে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে পুতিনের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।