ভোরবেলায় তিলোত্তমায় মর্মান্তিক বিপর্যয়! ভেঙে পড়া জরাজীর্ণ বাড়ির চাঙড়ে চাপা পড়ে মৃত ১!

টানা বৃষ্টির জেরে গত দু’দিন ধরে চলা দফায় দফায় অবিরাম বর্ষণের ফলে ফের এক বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান এলাকার একটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও পুরনো বহুতল হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এক মহিলার করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বর্ষার মরশুম শুরু হলেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই বিপজ্জনক ও ভগ্নজীর্ণ বাড়িগুলি পুর কর্তৃপক্ষের কাছে সবসময়ই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল এদিনের এই মর্মান্তিক ঘটনায়।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে যখন চারদিক গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়ই জোড়াবাগানের ওই পুরনো বাড়িটির একাংশ হঠাৎ করে বিকট শব্দে ভেঙে পড়তে শুরু করে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে বাড়িটির নিচে থাকা বাসিন্দারা মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, গত রাত থেকেই বাড়িটির বিভিন্ন অংশ থেকে টুকরো টুকরো অংশ খসে পড়ছিল, কিন্তু কেউ এত বড় বিপদের আশঙ্কা করেননি। ভোরে আচমকাই বাড়িটির একটি বড় অংশ তাশ বা ছাদের চাঙড়ের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (DMG), কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং দমকল বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি শুরু করে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্ষার দিনে শহরের এই পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে পুর প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক রয়েছে। তবে লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে জল জমে বাড়ির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ঘটনার পর জোড়াবাগান এলাকার ওই বিপজ্জনক বাড়িটির বাকি থাকা অংশটুকুও অবিলম্বে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর অবিলম্বে বুলডোজার ও অন্যান্য সরঞ্জামের সাহায্যে ভেঙে পড়া চাঙড়সহ সমস্ত জঞ্জাল ও আবর্জনা রাস্তা থেকে সরিয়ে সাফ করার কাজ শুরু করবে পৌরনিগম। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর কলকাতার পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষা নিয়ে ফের একরাশ আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মহলে।