জেলবন্দি ইমরানের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি! সুপ্রিম কোর্টের কড়া হস্তক্ষেপে শাফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো আদিয়ালা জেলে নিজের স্ত্রী ও বোনের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ইন-সাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। দেশের শীর্ষ আদালতের একটি ঐতিহাসিক নির্দেশ জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাক্ষাতের ঘটনাটি ঘটে, যা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালতের একটি বিশেষ বেঞ্চ কারাগারের অন্দরে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পিটিআই প্রধানকে অবিলম্বে একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি থাকার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কথা বিবেচনা করেই আদালত এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারে নরীনের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট একান্তে কথা হয় ইমরান খানের। জেলখানার বিশ্বস্ত সূত্রগুলির বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, সেই বৈঠকে নরীণ সুপ্রিম কোর্টের সেই বিশেষ নির্দেশের খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য কারাবন্দি নেতাকে বিস্তারিতভাবে জানান, যেখানে তাঁকে রাজধানী ইসলামাবাদের সুপরিচিত শাফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সাক্ষাতের সময় তিনি ইমরানের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সাম্প্রতিক চলমান আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ জেল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলিতে দ্রুত যেন ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়সল সুলতানের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের পরিবার তাঁর সুচিকিৎসা এবং নিজেদের পছন্দের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল। আদালতের এই নতুন রায়ের ফলে পরিবারের সদস্যরা এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে নিয়মমাফিক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং কারাবন্দি অবস্থাতেই তিনি তাঁর সন্তানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার বিশেষ অনুমতিও লাভ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা পাকিস্তানের বর্তমান শাসক শিবির শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।